ইনভেসিভ বা আগ্রাসী প্রজাতির জীবের পরিচয় বৃত্তান্ত

ইনভেসিভ বা আগ্রাসী প্রজাতির জীবের পরিচয় বৃত্তান্ত

বর্তমান পৃথিবীতে প্রাণী বিলুপ্তির অন্যতম এক কারণ হিসেবে ধরা হয় ইনভেসিভ স্পেসিস (Invasive species) বা আগ্রাসী জীবদেরকে।গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ক্লাইমেট চেঞ্জ বা জলবায়ু পরিবর্তন ইত্যাদি বিষয়ের পাশাপাশি আগ্রাসী জীবও প্রাণী বিলুপ্তির অন্যতম কারণ হয়ে দাড়িয়েছেi। কিন্ত ইনভেসিভ স্পেসিস কারা ? এদের চেনার উপায় কি ? এরা কেন ইনভেসিভ । ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে এই প্রবন্ধটি সাজানো হয়েছে। এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা। পাঠক কে প্রবন্ধের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত থাকার অনুরোধ করছি।

IUCN এর ব্যাখ্যামতে ইনভেসিভ স্পেসিস হল ঐ সমস্ত প্রজাতি যাদেরকে তাদের নির্দিষ্ট অঞ্চলের বাহিরে অন্য কোন অঞ্চলে পরিচিত করানো হয় দুর্ঘটনাক্রমে বা ইচ্ছাকৃতভাবে । এবং এই পরিচয় করানোটা যখন স্থানীয় জীব বৈচিত্র্যের জন্য যখন হুমকি হয়ে দাঁড়ায় তখন তাঁকে ইনভেসিভ বা আগ্রাসী প্রজাতি হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়। Natural History Museum এর এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে আগ্রাসী প্রজাতিকে আলাদা করে বুঝাবার জন্য সমগ্র প্রজাতিকে তিনভাগে ভাগ করা হয়। স্থানীয় প্রজাতি, অস্থানীয় বা নতুন প্রবর্তিত বা আনিত প্রজাতি এবং ইনভেসিভ বা আগ্রাসী প্রজাতি।

স্থানীয় প্রজাতিঃ

স্থানীয় প্রজাতি বলতে তাদেরকে বুঝানো হয় যারা কোন নির্দিষ্ট অঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবেই ইকোসিস্টেম বা বাস্তুতন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত।

অস্থানীয় প্রজাতিঃ

অস্থানীয় বা প্রবর্তিত বা আনিত প্রজাতি বলতে সেই প্রজাতিসমূহকে বুঝানো হয় যাদেরকে অন্যকোন অঞ্চল বা এলাকা হতে দুর্ঘটনাক্রমে বা ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্রের সাথে পরিচয় করানো হয়।

ইনভেসিভ বা আগ্রাসী প্রজাতিঃ

আর আগ্রাসী জীব বলতে তাদেরকে বুঝানো হয় যে সমস্ত নন নেটিভ বা বিদেশী প্রজাতির প্রাণী বা উদ্ভিদের অবস্থানের কারণে যদি স্থানীয় জীব বৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখন সেই উদ্ভিদ বা প্রাণীকে আগ্রাসী জীব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সেই হিসেবে সব নন নেটিভ বা বিদেশী জীব আগ্রাসী জীব নয়। সহজ ভাষাতে ইনভেসিভ বা আগ্রাসী জীব তারাই যাদেরকে নতুনভাবে কোন অঞ্চল বা এলাকার বাস্তুতন্ত্রের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের অবস্থান প্রকৃতির ব্যাপকভাবে ভারসাম্য নষ্টের কারণ হয়ে দাড়াচ্ছে তখন সেই প্রজাতির উদ্ভিদ বা প্রাণীদের আগ্রাসী জীব বলা হয়।

আগ্রাসী জীব থাকলে সমস্যা কোথায়?

এখন প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক যে আগ্রাসী প্রজাতির প্রাণীরা কেন সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে? পৃথিবীতে সব প্রাণীরই নিজস্ব স্বকীয়তায় টিকে থাকার অধিকার আছে আর এভাবেই সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য টিকে থাকে তাহলে আগ্রাসী প্রজাতিকে কেন সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হবে? কোন অঞ্চলের জীব বৈচিত্র্য গড়ে উঠতে হাজার হাজার বছর (milennia) সময় নেয়। ঐ অঞ্চলের সব উদ্ভিদ এবং প্রাণীকে নিজেকে ঐ পরিবেশের সাথে ধাপে ধাপে হাজার বছর ধরে নিজেকে মানিয়ে নেয়। সেখানে হঠাৎ করে অন্য পরিবেশের কোন জীবকে নিয়ে আসলে সাধারণত দুটো ঘটনা ঘটতে পারে। এক, ঐ প্রাণী নিজেকে টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হবে না। উদাহরণ দিয়ে সহজে বুঝিয়ে বললে ব্যাপারটা এরকম ধরুন, মেরু ভাল্লুক কে যদি বাংলাদেশে নিয়ে আসা সম্ভব হয় তাহলে সে কি আদৌ টিকে থাকতে পারবে ? এর সহজ উত্তর তার পক্ষে টিকে থাকা সম্ভব নয়। কেননা, মেরু ভাল্লুক নিজেকে বরফময় পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিয়েছে। আর তার এই মানিয়ে নেওয়া ঘটেছে লাখ লাখ বছর ধরে তার শারীরিক অবস্থানও ঠিক একইরকম। তার খাদ্যভ্যাস হতে শুরু করে তার প্রজনন ব্যবস্থা সবকিছু আর্কটিক অঞ্চলের সাথে মানানসই। তাকে যদি হঠাৎ করে কোন গরম , উত্তপ্ত আদ্রতাপূর্ণ কোন এলাকাতে নিয়ে আসা হয় তখন তার পক্ষে ঐ অঞ্চলের জীব বৈচিত্র্যের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া আদৌত সম্ভব না।

অনেক প্রাণীর ক্ষেত্রে ব্যাপারটা আবার উলটো ঘটে। কোন প্রাণী নির্দিষ্ট পরিবেশে হাজার বছর ধরে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া সত্ত্বেও দেখা যায় তার ঐ পরিবেশে অসংখ্য শিকারী প্রাণী থাকে যাদের থেকে তাকে সবসময় এড়িয়ে চলতে হয়। অর্থাৎ সে যেকোন সময় যেকোন শিকারীর শিকারে পরিণত হতে পারে। সে ঐ অঞ্চলের অ্যাপেক্স প্রিডেটর বা সর্বচ্চ স্তরের খাদক নয়। এখন এই প্রাণীকেই যদি এরকম কোন আইল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হয় যেখানে তার থেকে সব ছোট প্রাণীদের বাস তখন এই প্রাণীই কিন্ত ঐ আইল্যান্ডের অ্যাপেক্স প্রিডেটরে পরিণত হবে। আর স্থানীয় প্রাণীরা যেহেতু কখনই এই নতুন প্রাণীকে দেখে নাই তাই তারা এর ব্যাপারে অজ্ঞ হবে। এবং এই বিদেশী প্রাণী থেকে নিজেকে কিভাবে রক্ষা করতে হবে সে ব্যাপারেও তাদের কোন জ্ঞান থাকবে না। তাই তখন নতুন বিদেশী জীব স্বাভাবিকভাবেই আগ্রাসী হয়ে উঠবে।

বর্তমান পৃথিবীতে আগ্রাসী প্রজাতির জীবদের উদাহরণ অসংখ্য। দেখা যায় কোন নির্দিষ্ট অঞ্চলের প্রাণী ঐ অঞ্চলে এনডেঞ্জারড বা বিপন্ন হলেও তাকে যখন বিদেশের কোন মাটিতে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে তখন সে সেখানে আগ্রাসী হয়ে দাড়িয়েছে। এজন্য নিচে কিছু উদাহরণ পেশ করছি।

ফ্লোরিডায় বার্মিজ পাইথন বা অজগর সাপ (Burmese python):

বার্মিজ পাইথন বা অজগর বাংলাদেশে বিপন্ন প্রাণী হলেও আমেরিকার ফ্লোরিডার ন্যাশনাল পার্কগুলোতে বিশেষ করে এভারগ্লেডস (Everglades)- এ এই সাপ রীতিমত দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ১৯৯০ সালের দিকে মায়ামিতে অনেক পাইথন পালন করার উদ্দেশ্যে আনা হয়। ফ্লোরিডাবাসীদের কিছু লোক শখে সেখান হতে পাইথন কিনে ঘরে পোষতে আরম্ভ করে। পরবর্তীতে তাদেরই অনেকে এই পাইথন কে পালন করতে না পেরে ফ্লোরিডার এভারগ্লেডস বা এর আশেপাশের বিভিন্ন ঝোপঝাড়ের মধ্যে ছেড়ে দেয়। ফ্লোরিডার পরিবেশ অনেকাংশই এই অজগরদের টিকে থাকার জন্য একদম পার্ফেক্ট।

এরপর ফ্লোরিডার জলাভূমিগুলোতে অজগর নিজেকে খুব সহজেই মানিয়ে নিতে শুরু করে। আর স্থানীয় ছোট প্রাণীরা যেমনঃ র‍্যাকুন (raccoon) জলা খরগোশ (marsh rabbit) , আমেরিকান পসাম (Opossum) ইত্যাদি ছোট প্রাণীরা খুব সহজেই এই অজগরদের খোরাকে পরিণত হতে থাকে। এখন অবস্থা এরকম দাড়িয়েছে যে ফ্লোরিডাতে এখন আর উল্লেখিত প্রাণীদের দেখা পাওয়া যায় না বললেই চলে। অন্যদিকে অজগরের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। যদিও কি পরিমাণ অজগর রয়েছে সে সংখ্যা নির্ধারিত করা কষ্টকর হলেও এটা যে দশ হাজারের উপরে সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই। অনেক গবেষকদের মতে এ সংখ্যা আরো অনেক বেশি।

অজগর সাধারণত অ্যাম্বুশ বা হঠাৎ আক্রমণকারী প্রাণী। এরা সংকোচক মাংসপেশী প্রাণী (constrictor) । অর্থাৎ এরা হঠাৎ আক্রমণ করে নিজ পেশীগুলো সঙ্কোচনের মাধ্যমে যেকোন প্রাণীকে নাস্তানাবুদ করতে সক্ষম। উত্তর আমেরিকাতে লাখ লাখ বছর ধরে এরকম কোন প্রাণীর অস্তিত্ব ছিল না। হঠাৎ করে এরকম প্রাণীর আগমন স্থানীয় প্রাণীদেরকে সংকটাপন্ন করে ফেলেছে। অজগরের বিরুদ্ধে তাদের কোন আত্মরক্ষামূলক বৈশিষ্ঠ্য নেই। যে কারণে এরা অজগরকে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করতে সক্ষম নয়। যে কারণে দেখা যায় এসমস্ত অজগরদের করুণ শিকার হচ্ছে এভারগ্লেডসের কুমিররাও। সুযোগ পেলে অজগর এই কুমিরদেরকেও খেয়ে ফেলছে। ফ্লোরিডাতে এখন অজগর সাপ ধরার জন্য রীতিমত পুরষ্কার ঘোষণা করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা রীতিমত অজগরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তারাও স্বীকার করে নিয়েছে যে ফ্লোরিডার অজগর হয়তবা আমরা কখনোই পুরোপুরি সড়িয়ে ফেলতে পারব না। কিন্ত এদের সংখ্যা কিভাবে কমিয়ে আনা যায় সেদিকটা নিয়েই আমরা চিন্তা করছিii

অস্ট্রেলিয়াতে কেন টোড (Cane toad):

বর্তমান বিশ্বে আগ্রাসী প্রাণীদের সবচেয়ে করুণ শিকার হল অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়াতে গত দশকে বেশ কিছু প্রাণী বিলুপ্তির সম্মখীন হয়েছে। স্তন্যপায়ী প্রাণী বিলুপ্তির দিক দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান একেবারে প্রথমে। গবেষকরা অস্ট্রেলিয়াতে প্রাণী বিলুপ্তির মূল কারণ হিসেবে আগ্রাসী জীবদের দায়ী করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার আগ্রাসী প্রাণীদের মধ্যে প্রথম সারিতে যার অবস্থান সে হল কেন টোড (cane toad) বা কেন ব্যাং। এর আদি অবস্থান সাউথ আমেরিকাতে হলেও ১৯৩৫ সালে অস্ট্রেলিয়ানরা তাদের আখচাষ কে কেন বিটল (Cane beetle) থেকে রক্ষা করার জন্য সাউথ আমেরিকা হতে ১০১ টা কেন ব্যাং নিয়ে আসে। কিন্ত ঘটনা হয়ে যায় উল্টো। কেন টোড কে পেস্ট (ক্ষতিকর পোকা মাকড়) ধ্বংস করার জন্য নিয়ে আসা হলেও এই ব্যাং নিজেই এক বছর পর পেস্ট হয়ে দাঁড়ায়। এক বছরের মাথায় ১০১ টি কেন টোড থেকে হাজার হাজার কেন টোড জন্মায়। প্রথমে কুইন্সল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে এই ব্যাংদের ছাড়া হলেও এখন এরা ধীরে ধীরে পুরো অস্ট্রেলিয়া জুড়েই ছড়িয়ে পড়ছে।

এদের পিঠ দিয়ে এক ধরণের সাদা আঠালো পদার্থ বের হয় যা অত্যন্ত খতারনক বিষাক্ত পদার্থ ।একে বুফোটোক্সিন‘ (bufotoxin) বলা হয়। কেন টোড যখনই কারো পেটে যায় বা পেটে যাওয়ার পূর্বেই এই বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শে এসে সেই প্রাণীর হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে মারা যায়। অস্ট্রেলিয়ার প্রাণীদের যেহেতু কেন টোডের ব্যাপারে কোন জ্ঞান নেই তাই তারা সহজ খাদ্য হিসেবে কেন টোড খাওয়া শুরু করে। এখানেই ঘটে বিপত্তি। অস্ট্রেলিয়ার কোন প্রাণী কেন টোড কে হজম করতে সক্ষম নয়iii। কেন টোড এতই বিষাক্ত যে সবচেয়ে বিষাক্ত সাপেরাও একে খাওয়ার উদ্দেশ্যে গ্রহণ করার সাথে সাথে তারা মারা পড়ে। ইস্টার্ন ব্রাউন স্নেক, কিং ব্রাউন স্নেক, ডেথ অ্যাডার, রেড বেলি ব্ল্যাক স্নেক অসংখ্য বিষাক্ত সাপ হচ্ছে কেন টোডের করুণ শিকার। এছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার গোসাপ প্রজাতির প্রাণীরাও হচ্ছে এর করুণ শিকার। ইয়েলো স্পটেড মনিটর ( yellow-spotted monitor ) এর সংখ্যা শতকরা নব্বইতে কমে আসে কেন টোডের কারণে iv

এছাড়া বিভিন্ন স্তন্যপায়ী প্রাণীও কেন টোডের বিষের অসহায় শিকার হচ্ছে। কেন টোডের মধ্যেও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন পরিবেশের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার মত সক্ষমতা তৈরি হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা এতেও আতঙ্কিত বোধ করছেন। অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়ার কোন ভূমিই হয়তবা এক সময় এই ব্যাং মুক্ত থাকবে না। এছাড়াও কেন টোডের অবস্থানের কারণে স্থানীয় ব্যাঙেরাও পড়েছে বিপত্তিতে। খাবারের প্রতিযোগিতা বেড়ে গিয়েছে। কেন টোডের ব্যাপারে আরো ভয়ানক ব্যাপার হচ্ছে এই ব্যাং তার জীবনচক্রের পুরো সময়টা জুড়েই বিষাক্ত থাকে। ডিম , ব্যাঙাচি ( tadpoles), বাচ্চা ব্যাং ( toadlets) এবং পরিণত ব্যাং ( Adult toads) সবাই বিষাক্ত। অর্থাৎ এই ব্যাং কে কোন পর্যায়েই অস্ট্রেলিয়ার অন্য প্রাণীদের জন্য খাওয়া সম্ভব নয়। অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সব প্রাণী কেন টোডের নিকট নাস্তানাবুদ হলেও দেখা যায় এর আদি ভূমি দক্ষিণ আমেরিকাতে এর বেশ কিছু শিকারি রয়েছে । যারা দিব্বি কেন টোড খেয়ে বেচে থাকে। দক্ষিণ আমেরিকার সাদু পানির কুমির দিব্বি যেখানে কেন টোড খায় সেখানে অস্ট্রেলিয়ার সাদু পানির কুমিরদের নিকট কেন টোড ভয়ানক হিসবে সাব্যস্ত হচ্ছেv। এছাড়া এশিয়ার মনিটর লিজার্ড বা গুইসাপেরা যেখানে কেন টোড কে কোন সমস্যা ছাড়াই খাবার বানাতে সক্ষম সেখানে অস্ট্রেলিয়ার গোয়ানা বা গুই সাপেরা কেন টোডের বিষের কয়েক মিনিটও টিকে থাকতে সক্ষম নয়vi। কেন টোড যদিও এশিয়ার কোন ব্যাং নয় কিন্ত এর কাছাকাছি একই পরিবারের (Bufonidae) কুনো ব্যাং ( Asian Common toad / Sci: Duttaphrynus melanostictus ) এর সাথে এদের হাজার বছরের বিবর্তনের কারণে এরা কেন টোড কোনরকম ক্ষতি ছাড়া ভক্ষণ করতে সক্ষম।

অস্ট্রেলিয়ার গোয়ানা বা গুইসাপ সদৃশ সরীসৃপদের পূর্বপুরুষ এশিয়া হতে আসলেও কালের তাদের টোডের বিষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধি ব্যবস্থা তারা বিবর্তনের কারণে হারিয়ে ফেলেছে। কেননা, অস্ট্রেলিয়ার ভূমিতে কখনোই কেন বিষধর টোড ছিল না। তাই তাদের এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থারও দরকার হয় নি। কিন্ত এশিয়াতে অন্যান্য টোড থাকার কারণে তাদের টোডের বিরুদ্ধে শারীরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ঠিকই টিকে গিয়েছে। অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়াতে কেন টোড নামক এই ব্যাং এর অবস্থান পুরোপুরি এক দুর্যোগ। যার নির্দয় শিকার অস্ট্রেলিয়ার জীব বৈচিত্র্য।

বৃটেনে আমেরিকার ধূসর কাঠবিড়ালী (grey squirrels):

পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মত বৃটেনেও বেশ কিছু আগ্রাসী জীব রয়েছে যাদের উপস্থিতি স্থানীয় জীব বৈচিত্র্যের উপর বছরের পর বছর ধরে প্রভাব ফেলছে। এদের মধ্যে অন্যতম হল ধূসর কাঠবিড়ালী। যুক্তরাজ্যে বসবাসকারি যে কেউ এই কাঠবিড়ালিদের কে তাদের ফোঁপা লেজ দেখে সহজেই চিহ্নিত করতে পারবে। এদেরকে ১৮৭০ সালে নর্থ আমেরিকা থেকে যুক্তরাজ্যে আনা হয়। স্থানীয়ভাবে এদের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে এদের সেরকম সময়ের প্রয়োজন হয় নি।

এদের উপস্থিতির কারণে বৃটেনের নিজস্ব লাল কাঠবিড়ালীদের ( Red Squirrels) খাবার এবং বাসস্থান নিয়ে এক রকম প্রতিযোগিতার সম্মখীন হতে হয়। ধূসর কাঠবিড়ালিদের কে বৃটেনে আগ্রাসী জীবদের মধ্যে সাব্যস্ত করার অন্যতম কারণ হল তাদের নানামুখী উপস্থিতির কারণে লাল কাঠবিড়ালীর সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে যেতে থাকে। অর্থাৎ লাল কাঠবিড়ালীরা আমেরিকা থেকে নিয়ে আসা ধূসর কাঠবিড়ালিদের সাথে প্রতিযগিতায় টিকে থাকতে পারছে না। এর পিছনে বেশ কিছু কারণ আছে।

ধূসর কাঠবিড়ালীরা এক ধরণের ভাইরাস বহন করে যার নাম  squirrelpox, or Parapoxvirus এই ভাইরাসের প্রতিরোধ ক্ষমতা ধূসর কাঠবিড়ালিদের থাকলেও লাল কাঠবিড়ালিদের এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেই। তাই এই ভাইরাস তাদের নিকট মৃত্যুর কারণ।

ধূসর কাঠবিড়ালি খুব তাড়াতাড়ি বংশবৃদ্ধি করতে পারে কিন্ত লাল কাঠবিড়ালি তা পারে না।

ধূসর কাঠবিড়ালিরা বাদাম সংগ্রহে লাল কাঠবিড়ালিদের থেকে অনেক পটু। একারণে দেখা যায় তারা খুব সহজেই খাদ্য সংগ্রহের দিক থেকেও লাল কাঠবিড়ালিদের কে হারিয়ে দিচ্ছে। এতে লাল কাঠবিড়ালীরা খাদ্যের অভাবের সম্মখীন হচ্ছে। যা তাদের টিকে থাকতে পারার কৌশল কে এক রকম হুমকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে।

লাল কাঠবিড়ালিদের থাকার জায়গাও ধূসর কাঠবিড়ালিদের দ্বারা খুব সহজেই দখল হয়ে যাচ্ছে।

এখন বর্তমানে লাল কাঠবিড়ালিদেরকে শক্তিশালীভাবে একমাত্র স্কটল্যান্ডের কিছু জঙ্গলে এবং কিছু দ্বীপে পাওয়া যায়। যদি এদেরকে সংরক্ষণের জন্য আলাদা কোন ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে যে পরবর্তী শতাব্দিতে এরা বিলুপ্তির সম্মখীন হতে পারেvii

বাংলাদেশে কচুরিপানা (Water hyacinth):

বাংলাদেশে স্বীকৃত আগ্রাসী প্রজাতির জীবদের মধ্যে প্রথম সাড়িতে আছে কচুরিপানা। গত বছর (২০২০ ইং) ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশের আগ্রাসী জীবদের নিয়ে এক নিবন্ধ প্রকাশিত হলে সেখানে কচুরিপানা কে অন্যতম মারত্মক আগ্রাসী উদ্ভিদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। নিবন্ধে উল্লেখ করা হয় এদের উপস্থিতির কারণে অভ্যন্তরীণ পানি প্রবাহ ব্যাপক বাঁধাগ্রস্ত হয় এছাড়াও পানিতে থাকা মাছের বাসস্থান কে অনুপযোগী করে তোলে। পানির বাস্তুসংস্থান কে নষ্ট করে ফেলে viii

বাংলাদেশে এ উদ্ভিদের আগমন সম্পর্কে বাংলাপিডিয়াতে উল্লেখ করা হউনিশ শতকের শেষার্ধে জনৈক পর্যটক কচুরিপানার অর্কিডসদৃশ ফুলে মুগ্ধ হয়ে ব্রাজিল থেকে এ উদ্ভিদ এ দেশে আনেন। বাংলাদেশে এটি এত দ্রুত ছড়াতে থাকে যে ১৯২০এর দশকের মধ্যেই দেশের সবগুলি জলাশয় কচুরিপানায় ভরে যায়।

এতে নৌ চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং নিচু জমিতে আমনজাতীয় চাষ ধান এবং পাট চাষ কঠিন হয়ে ওঠে, ফলে বাংলার অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দেয়।এমতামতাবস্থায় সরকার বেঙ্গল জলপথ বিধি, বেঙ্গল পৌরসভা বিধি, বেঙ্গল স্থানীয় সরকার বিধি, বেঙ্গল গ্রামীণ স্বায়ত্তশাসন বিধির সহায়তায় এ দুর্যোগ মোকাবিলার উদ্যোগ গ্রহণ করে, কিন্তু তেমন সুফল পাওয়া যায় নি। অবশেষে সরকার সর্বসাধারণের স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কচুরিপানা উৎখাত শুরু করে। ১৯৩৬ সালে কার্যকর কচুরিপানা বিধি মোতাবেক সকলের জন্য তাদের নিজ জমি বা দখলি এলাকায় কচুরিপানা রাখা নিষিদ্ধ ঘোষিত হয় এবং কচুরিপানা উৎখাত অভিযানে সকলের সহায়তা বাধ্যতামূলক করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলিতে প্রশাসকদের সেখানকার কচুরিপানা ধ্বংস কর্মসূচি পালন এবং প্রধানত স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান সকলের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়। ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতেও কচুরিপানা উৎখাতের অঙ্গীকার স্থান পায়। ফলে ১৯৩৭ সালে এ.কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হলে কচুরিপানা উৎখাত কর্মসূচি জোরদার হয়ে ওঠেix

 

বাংলাদেশে কচুরিপানা উদ্ভিদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে পরিষ্কার করা হলেও এখন দেশের বিভিন্ন উপনদী এবং খালবিলে এ উদ্ভিদের ব্যাপক উপস্থিতি চোখে পড়ার মত। এদের কারণে দেশের বন্যপ্রাণী বিশেষ করে দেশীয় মাছেদের বংশ প্রজনন এবং টিকে থাকতে কি পরিমাণ বিরূপ পরিস্থিতির সম্মখীন হতে হচ্ছে তার ব্যাপক কোন সমিক্ষা না থাকলেও অন্যান্য অঞ্চলে এর অবস্থান সংক্রান্ত গবেষণা কে সামনে রেখে বলা যায় বাংলাদেশের জলজ প্রাণীরাও এ উদ্ভিদের কারণে বিরূপ পরিস্থিতির সম্মখীন হচ্ছে। গার্ডিয়ান পত্রিকার Dealing with an invincible invader নামক কলামে নেপালের পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয় , এই উদ্ভিদ প্রতিদিন দশ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বাড়ে। নদী, শুকনো ভূমি , জলাভূমি তে সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে। নেপালের জলাভূমিগুলো কচুরিপানাতে ঢেকে যাওয়ার কারণে সেখানে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা দিন দিন কমে আসছে। আশঙ্কাজনকহারে এ সমস্ত এলাকার মাছ কমে যাচ্ছেx। বর্তমানে গবেষকদের দেখানো পথে অনেকেই কচুরিপানার পরিচ্ছন্ন ব্যবহার করতে শিখছে। কচুরিপানা দিয়ে গবেষকদের দেখানো পথে অনেকেই এখন উপকারি সার বানাচ্ছে xi। এছাড়া অনেকে এ জিনিস দিয়ে নিত্য ব্যবহার্য পণ্য বানিয়ে শিল্প চর্চা কে সমৃদ্ধি করছেxii। কচুরিপানার এরকম নানামুখী ব্যবহার নিঃসন্দেহে কচুরিপানার আগ্রাসী আচরণ কে কিছুটা হলেও কমিয়ে আনবে। যা আমাদের বায়োডায়ভার্সাটির জন্য সুসংবাদ।

 

এটা মনে রাখা দরকার যে উপরে উল্লেখিত জীবদের আগ্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও তারা কিন্ত নিজ ভূমিতে মোটেও আগ্রাসী নয়। বরং তারা নিজ নিজ অঞ্চলে বাস্তুতন্ত্রের জন্য অনেক বড় অংশ হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে। আর এই প্রাণীদের আগ্রাসী হওয়ার পিছনেও এদের নিজস্ব কোন ভূমিকা নেই। এর দোষ মানুষের উপর বর্তায়। মানুষের অব্যবস্থাপনা এবং অবিবেচক কাজের জন্যই বিদেশি প্রজাতির জীবেরা আগ্রাসী হয়ে উঠে। প্রত্যেকটা প্রাণীই অসাধারণ এবং তাদের টিকে থাকার কৌশলও অসাধারণ। কিন্ত মানুষের অব্যবস্থাপনার কারণে এই টিকে থাকার কৌশলই জীব বৈচিত্র্যকে নাস্তানুবাদ করে ছাড়ছে।

আরেকটা বিষয় মনে রাখা দরকার, উপরে যে প্রাণীদের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে তারা কিন্ত ঐ রেঞ্জের বাহিরে অন্যান্য অঞ্চলেও আগ্রাসি প্রাণী বা উদ্ভিদ হিসেবে সাব্যস্ত। এবং উল্লেখিত দেশগুলোতেও উদাহরণে উল্লেখিত জীব ছাড়াও অন্যান্য আগ্রাসী জীবও রয়েছে। আলোচনা সংক্ষেপিত করার জন্য একটি করে উদাহরণ উল্লেখ করা হয়েছে।

আগ্রাসী জীবের ব্যাপারে যা করণীয়ঃ

IUCN এ সম্পর্কিত গাইড লাইনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবজেকটিভ তুলে ধরে। সাতটি অবজেকটিভ হল

বিদেশী আগ্রাসী জীব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে যে আগ্রাসী জীব কিভাবে উন্নত এবং উন্নয়নশীল রাষ্ট্র সহ সমগ্র বিশ্বের জীববৈচিত্র্যে কিভাবে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

বিদেশী আগ্রাসী জীবদের উপস্থাপন বন্ধ করা যে একটা অগ্রাধিকার বিষয় সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

অনিচ্ছাকৃতভাবে বিদেশী আগ্রাসী জীবদের উপস্থাপন কে কমিয়ে আনতে হবে এবং এবং অননুমোদিত কোন বিদেশী জীবের সূত্রপাত বন্ধ করতে হবে।

যে সমস্ত বিদেশী জীবকে ইচ্ছেকৃতভাবে জৈবিক নিয়ন্ত্রণের (Biological control) কথা চিন্তা করে পরিবেশে ছাড়া হয় সে সমস্ত জীবকে খুব কাছ থেকে মূল্যায়ন করতে হবে এবং পরিবেশে এর ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে চিন্তা করতে হবে।

আগ্রাসী জীবদের নির্মূলের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে এবং এ প্রকল্প সফল করার জন্য এবং এ প্রকল্পের জন্য মানুষকে সচেতন করার জন্য ক্যাম্পেইন এবং বিভিন্ন প্রোগ্রামের আয়োজন করতে হবে।

আগ্রাসী জীবদের রোধকল্পে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এ সংক্রান্ত আইনের সহায়তা নিতে হবে। এবং এদের নির্মূল করার ব্যাপারে একইভাবে আইনের সহায়তা নিয়ে করতে হবে।

আগ্রাসী জীবদের রোধকল্পে পর্যাপ্ত গবেষণা করতে হবে যে এরা বিশ্বব্যাপী কিভাবে সমস্যার কারণ হয়ে দাড়াচ্ছে এবং সেই গবেষণার তথ্য সাধারণ মানুষের সাথে শেয়ার করতে হবেxiii

 

বাংলাদেশে আগ্রাসী জীবের আগমণের জন্য জীববিজ্ঞানীদের যে পরামর্শঃ

 

বাংলাদেশে আগ্রাসী জীবদের নিয়ে গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয় বাংলাদেশে আগ্রাসী বিদেশী জীবদের (Invasive Alien Species) চিহ্নিতকরণের জন্য পর্যাপ্ত ফ্রেমওয়ার্কের এখনো অভাব রয়েছে। বাংলাদেশের সীমানা এবং বিভিন্ন বন্দর এখনো অরক্ষিত। এ সমস্ত জায়গা দিয়ে বিদেশী কোন জীবকে আলাদাভাবে পৃথকীকরণ করার ব্যবস্থা খুবই দুর্বল। দেশে একদল অভিজ্ঞ লোকদের সমন্বয়ে একতি বোর্ড গঠন করা দরকার যারা দেশে কৃষি, বন এবং মৎস চাষে বিদেশী জীবদের সূত্রপাত এবং কার্যকলাপের উপর নজর রাখবেন। বিদেশী জীবদের কে দেশী জীবদের হতে কার্যকরীভাবে পৃথক করার ব্যাপারে সরকারকেও সচেতন হতে হবে। আগ্রাসী জীবদের রোধ করার জন্য সারা বিশ্বে যান্ত্রিক, রাসয়ানিক, এবং জৈবিক বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে । কিন্ত এই পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হলে দক্ষ জনশক্তি , প্রযুক্তি, এবং অভিজ্ঞ লোকদের প্রয়োজন। যদিও এগুলো খুব ব্যয়বহুল এবং নিবিড় শ্রমের সম্পর্কিত ব্যাপার। তাই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার উপরেই বেশি গুরত্ব দিতে হবে। এজন্য কার্যকর নীতি এবং আইনের ব্যবস্থা করতে হবে যাতে করে বিদেশী আগ্রাসী জীবদের থেকে দেশীয় জীবদের রক্ষা করা যায়। স্থানীয় জনগণকে এর মাঝে সম্পৃক্ত করতে হবেxiv

আগ্রাসী জীবের ব্যাপারে ভিন্ন ভিন্ন দেশ ভিন্ন ভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। আগ্রাসী জীব নির্মূলীকরণ বর্তমান সময়ের অন্যতম কঠিন কাজ সমূহের মধ্যে একটি। আগ্রাসী জীবদের মাঝেও শ্রেণীবিভাগ রয়েছে। নির্মূলীকরণ এ সমস্ত শ্রেণীবিভাগ কে সামনে রেখেই করতে হয়। এক এক আগ্রাসী প্রাণীকে নির্মূল করার ভিন্ন ভিন্ন উপায় হতে পারে। কোন আগ্রাসী প্রাণীকে কিভাবে নির্মূল করতে হবে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং অভিজ্ঞ জীববিজ্ঞানীরা তাদের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকেন। সাধারণ এবং সরকারের উচিত তাদের সিদ্ধান্তকে সমীহ করে তাদের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করা।

তথ্যসূত্র এবং টিকাসমগ্রঃ

প্রচ্ছদের ছবিটি বাংলাদেশ সহ এশিয়ার অন্যতম উদ্ভিদ Bitter vine ( Sci: Mikania micrantha) এর। অঞ্চলভেদে এর ভিন্ন ভিন্ন নাম প্রচলিত। কিছু এলাকায় একে জার্মান লতা আবার কিছু এলাকাতে একে পাকিস্তানি লতা হিসেবে পরিচয় করানো হয়। কিন্ত এর মূল আদি নিবাস দক্ষিন আমেরিকাতে। এর ফুলের সৌন্দর্যের কারণেই মূলত গাছটি এশিয়াতে মানুষের দ্বারা ছড়িয়ে পড়ে।  

iii  ইদানিং কিছু প্রাণীর মধ্যে কেন টোডের ব্যাপারে বিবর্তন হয়েছে বলে পরিলক্ষিত হচ্ছে। যেমনঃ রেড বেলিড ব্ল্যাক স্নেক এর মুখ ছোট হয়ে আসছে । বিজ্ঞানীরা ধারণা করছে কেন টোড কে যেন তারা খাবার হিসেবে গ্রহণ করতে সক্ষম না হয় সে জন্যই ধীরে ধীরে তাদের শারীরিক এই পরিবর্তন ঘটছে। এছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার কিছু অঞ্চলের কাক কেন টোডের শুধুমাত্র ঐ অংশটুকুই বেছে বেছে খেতে দেখা গিয়েছে যে অংশে কোন বিষ নেই। এছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার জলা ইঁদুর রাকালি ( Rakali) কে অনেকবার কেন টোডের শুধুমাত্র হৃদপিন্ড খেতে দেখা গিয়েছে। এথেকে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন অস্ট্রেলিয়ার কিছু প্রাণীর মধ্যে কেন টোডের কারণে বিবর্তন ঘটছে। https://theconversation.com/eat-your-heart-out-native-water-rats-have-worked-out-how-to-safely-eat-cane-toads-123986#:~:text=Australia’s%20water%20rats%2C%20or%20Rakali,safely%20eat%20toxic%20cane%20toads.

viiiInvasive Alien species of Bangladesh : Page no: 11-13

xiiiIUCN Guidelines for the prevention of biodiversity loss caused by Alien Invasive Species (2000); Page no: 05

xivInvasive Alien species of Bangladesh : Page no: 12

Leave a Reply

Your email address will not be published.