এ পারফেক্ট প্ল্যানেট এর পারফেকশন , বিবিসির ব্রান্ড নিউ ডকুমেন্টারির রিভিউ

এ পারফেক্ট প্ল্যানেট এর পারফেকশন , বিবিসির ব্রান্ড নিউ ডকুমেন্টারির রিভিউ

কোন নেচার ডকুমেন্টারির পারফেকশনের উপাদান কি কি ? আমি জানি, আমার মত যারা ডেভিডের ফ্যান তাদের একটা কথাই থাকবে ডকুমেন্টারি যাই হোক যদি সেখানে ডেভিডের ভয়েস থাকে তার মানে সেটা স্পেশাল। একটা ডকুমেন্টারি রিভিউ যদি শুধুমাত্র কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির ভয়েস দিয়ে যাচাই বাছাই করি তাহলে তা খুবই আনকোরা রিভিউ হবে। যদিও গত বছর আমরা ডেভিড অযাটেনবরোর দু দুটো ডকুমেন্টারি পাই। একটা ছিল বিবিসির Extinction: The Facts অন্যটি নেটফ্লিক্সের D. Attenborough A life on our planet. দুটো ডকুমেন্টারি অনেকটাই কাছাকাছি ছিল। কিন্ত দুটোই ছিল থিউরেটিক্যাল বা অনেকটা এরকম এক বুড়ো দাদু হাতে লাঠি নিয়ে তার নাতিদের বলছে আমরা প্ল্যানেট কে রক্ষা করার জন্য অনেক কিছু করেছি আর পারছি না , এবার তোমরা কর। অর্থাৎ দুটোতে এমন কিছু মিসিং ছিল যা আমাদেরকে এন্টারটেইন করবে। কিন্ত এই বছরের শুরুতেই বিবিসি আমাদেরকে আগের সেই স্বাদ দিল। অর্থাৎ কোন বনের কোন ছোট্ট কোন প্রাণী তার বাচার জন্য কোন কিছু করছে আর আমরা সেটা দেখছি এবং কোন জাদুকরি কন্ঠ আমাদেরকে তা শুনোচ্ছে।

হা, ডেভিড অ্যাটেনবরো ২০২১ এ আবারো ব্রান্ড নিউ ডকুমেন্টারি সিরিজ নিয়ে ফেরত এসেছে্ন। প্ল্যানেট আর্থ , প্ল্যানেট আর্থ টু, ব্লু  প্ল্যানেট টু নেটফ্লিক্সের আওয়ার প্ল্যানেট এই সিরিজগুলো নেচার ডকুমেন্টারি সিরিজের এক ভিন্ন মাত্রা। এগুলো আপনাকে কোন প্রজাতির সাথে শুধু পরিচয়ই করাবে না যে এটা হাতি, এটা বানর। এখানে দেখাবে তারা কিভাবে বছরের পর বছর ধরে টিকে আছে। এদের পুরো সার্কেল অফ লাইফের গুরুত্বপূর্ণ ছোট একটা অংশ ধারণ করে দর্শকদের সামনে প্রচার করাই এ ডকুমেন্টারিগুলোর মূল বৈশিষ্ট্য। যাই হোক রিভিউ শুরু করা যাক।

এর ট্রেইলার দেখে আমার মনে হয়েছিল এটা Natgeo এর One Strange Rock টাইপের ডকুমেন্টারি হবে। যেহেতু মেইন থিম অনেকটা ওরকমই ছিল। ভলক্যানো বা আগ্নেয়গিরি, সান বা সূর্য, আবহাওয়া ওয়েদার , সমুদ্র বা ওশন এই চারটা জিনিস পৃথিবীকে কিভাবে এই অবস্থায় এনেছে এবং কিভাবে লাইফ এ জিনিসগুলোর উপর নির্ভর করে টিকে আছে তাই ছিল প্রথম চার পর্বের মূল বিষয়।

প্রথম পর্বে দেখানো হয় কিভাবে আমাদের পৃথিবীকে ভলকানো শেইপে এনেছে । না , এটা দেখানো হয় নাই বরং বলা হয়েছে। কেননা, এটা দেখাতে হলে তা গ্রাফিক্স ভিজুয়ালাইজড করে দেখাতে হবে। আমরা জানি এ ডকুমেন্টারিগুলো সেরকম না। এগুলো শট সিনারির উপর। অর্থাৎ যে দৃশ্যধারণ করা হবে তাই দেখানো হবে। তাই এখানে দেখানো হয় তানজানিয়ার ওল দনিয়োর লেঙ্গাই ( Ol Doinyo Lengai) এর ভলকানো কেন্দ্র করে যেভাবে বসবাসের অনুপুযুক্ত জায়গাতে কিছু প্রাণী সমৃদ্ধের সাথে টিকে আছে এবং যে ভলকানো ধ্বংসের কারণ সে ভলকানোই কিভাবে কিছু প্রাণীর জীবন ধারণের প্রত্যক্ষ কারণ হয়ে আছে তা বর্ণনা করাই ছিল মূল বিষয়। এখানকার লেক ন্যাট্রোনে ( Lake Natron) কি করে লাখ লাখ লেজার ফ্লেমিঙ্গো (Lesser flamingo) পাখি খুব ভালোভাবে টিকে আছে তা অত্যন্ত চমৎকারভাবে দেখানো হয়। কিন্ত দৃশ্যায়নের প্রেক্ষাপটে আমার মনে হয় কিছু ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। এই প্রথম এখানে দেখানো হয় মারাবো স্ট্রোক ( Marabou stork) পাখি ধরে ধরে লেজার ফ্লেমিঙ্গোর দুর্বল বাচ্চাদের ঠোট দিয়ে ধরে গিলে ফেলছে। একেবারে দুর্বল বাচ্চাদের মারিবো স্ট্রোক খাচ্ছে। যে বাচ্চারা এমনিতেই বাচার সম্ভাবনা খুব কম শুধুমাত্র সেই পাখিদেরকেই মারিবো পাখি গিলে খাচ্ছে। কিন্ত সমস্যা হল ফ্লেমিঙ্গো এবং ফ্লেমিঙ্গোর বাচ্চাদের নিয়মিত রোদের সাথে দৌড়ের রুটিন কে অ্যাটেনবরো মারাবো পাখির কারণে হচ্ছে তা উল্লেখ করেন। মারাবো পাখির কারণে প্যানিক সৃষ্টি হয় যেকারণে বাচ্চারা এরকম দৌড়াচ্ছে। কিন্ত বাস্তবতা হল মারাবো স্ট্রোক কখনোই ধাওয়া দিয়ে বা দৌড় দিয়ে পাখির বাচ্চা খাবে এমন নয়। মারাবো পাখি শুধুমাত্র দুর্বল্গুলোকেই বাছাই করে যারা একেবারে দুর্বল হয়ে যায়। এটাও ভিডিওতে স্পষ্ট ছিল। লেক ন্যাট্রোনেরই ফ্লেমিঙ্গোর দৃশ্যায়ন দেখানো হয়েছিল নেটফ্লিক্সের আওয়ার প্ল্যানেটের প্রথম পর্বে সেখানো বাচ্চা পাখিগুলো রুটিন ওয়াইজ দৌড়িয়ে বেড়ায় এবং পাশেই মারাবো পাখি দাঁড়িয়ে ছিল তাও দৃশ্যায়ন হয়। মারাবো স্ট্রোক পাখি সেরেনগাটিতে কুইলা পাখির বাচ্চাদেরকেও এভাবেই খায়। এদের খাদ্যভ্যাস কে সুযোগসন্ধানী বলা যায়। তাই এদের জন্য ফ্লেমিঙ্গোর বাচ্চা খাওয়া নতুন কিছু নয়। বা এরকম কিছুও নয় যে তারা ফ্লেমিঙ্গোর বাচ্চাকে ধাওয়া করে খাচ্ছে। যাই হোক, এখানকার দৃশ্যায়ন ছিল মুগ্ধ করার মত। তাছাড়া গালাপাগোস (Galpagos Islands) আইল্যান্ডের আগ্নেয়গিরি কেন্দ্র করে কিভাবে ল্যান্ড ইগুয়ানা (Iguana) টিকে আছে তা দেখানো হয়। যে আগ্নেয়গিরি ধ্বংসের কারণ সে আগ্নেয়গিরিই কি করে ইগুয়ানাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম টিকিয়ে রাখছে এটা খুব স্পষ্ট করা হয়। ল্যান্ড ইগুয়ানা একেবারে ক্রেটারের নিকটে গিয়ে ডিম পাড়ে। যেন তা স্বাভাবিক উত্তাপেই বাচ্চা ফুটে বের হয়ে আসতে পারে। উপর থেকে ক্রেটার পর্যন্ত যাওয়ার অসাধারণ দৃশ্য দেখানো হয়। এটা নতুন কিছু ছিল। এ পার্ফেক্ট প্ল্যানেটের এক পার্ফেক্ট ডকুমেন্টেশন বলব এই অংশটুকুকে। তাছাড়া ফিঞ্চ পাখিকে দেখানো হয় যারা মূল ভূমি থেকে অনেক আগে কোন কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। এখন তাদের খাবারের সোর্স হল রক্ত। এটা সত্যিকারার্থেই ইন্টারেস্টিং একটা ব্যাপার। দূর থেকে আসা নাযকা বুবি পাখিদের থেকে ফিঞ্চ পাখিরা কিভাবে রক্ত পান করছে এটা না দেখলে বলে বুঝানো মুশকিল। কিন্ত এটার সাথে আমি ভলক্যানোর কোন সম্পর্ক পাই নাই।

দ্বিতীয় পর্বের বিষয়বস্ত ছিল সূর্য। পৃথিবীর শুরু থেকে এই পর্যন্ত সূর্য কি করে আমাদের দুনিয়াকে বর্তমান সেইপে এনে দিয়েছে তা বলা হয়। এবং বর্তমানে পুরো পৃথিবী কিভাবে সূর্যের উপর নির্ভরশীল সে বিষয়বস্ত নিয়ে কথা বলা হয়। এই পর্বে উল্লুকের দৃশ্য দেখানো হয়। এই প্রথম উল্লুকের পুরো এক গাছ থেকে আরেক গাছে যাওয়ার সিনেমাটিক ভিউ দেখলাম। এখানে ডুমুর গাছের উপর উল্লক সহ রেইন ফরেস্টের অন্যান্য প্রাণী কতটা নির্ভরশীল তা দেখানো হয়। সবেচেয়ে আশ্চর্য ব্যাপার যেটা জানলাম তাহল ফিগ ওয়াসপ নামক পতঙ্গের ব্যাপারে। ফিগ ওয়াস্পের যে জীবন চক্র দেখানো হল তা যেন কোন মিথিক্যাল কাহিনী। ডুমুর গাছের ফুল হয় না। কিন্ত ডুমুর গাছের পলিনেশন হয় এই ফিগ ওয়াস্পের মাধ্যমেই। এরপরে আর্কটিকের নেকড়েদের দেখানো হয়। এই পর্বে কানাডার বিখ্যাত গাটার স্নেকের শীত নিদ্রা হতে জেগে উঠানো দেখানো হয়। অনেকের নিকটেই গার্টার স্নেকের ভিডিও নতুন কিছু মনে হবে না কেননা বিবিসির লাইফ সিরিজেই গার্টার স্নেকের দৃশ্য দেখানো হয়েছিল। কিন্ত এখানে ইন্টারেস্টিং পার্ট আছে যা দেখে আশ্চর্য হবেন যে কি করে একটা নারী সাপের সাথে মিলনের জন্য অন্যান্য পুরুষ সাপ একে অপরের সাথে পাল্লা দিয়ে নারী সাপের সাথে থাকার চেষ্টা করে। এ পর্বে আর্কটিক অঞ্চলের কিছু দৃশ্য কভার করা হয়। সাহারার সিলভার অ্যান্টের কর্মকান্ড দেখানো হয় এর পাশাপাশি আরো কিছু প্রজাতির প্রাণীদের কর্মকান্ড তুলে ধরা হয়। তুলে ধরার পাশাপাশি এ বিষয়ে বর্ণনা করা হয় যে সূর্য কি করে তাদের জীবনকে পরিচালিত করছে।

তৃতীয় পর্বের বিষয়বস্ত হল ওয়েদার বা আবহাওয়া। আমাদের পৃথিবীর জীবনময় অস্তিত্বের পিছনে এর আবহাওয়ার এক বিশাল অবদান রয়েছে। পৃথিবীর সামান্য কিছু ডিগ্রীতে কাত হওয়ার কারণে আমরা বিভিন্ন ঋতু পরিবর্তনের স্বাদ পাই। এর মৌসুমী বায়ু যা আমাদেরকে দেয় দীর্ঘকাল ব্যাপী বৃষ্টির আস্বাদন। এই বৃষ্টির ফলে আবার অনেক রেইন ফরেস পরিণত হয় জলাবনে। মৌসুমী বায়ুর কারণে উদ্ভিদের ফল দেওয়া না দেওয়া নির্ধারিত হয়। যা আবার অনেক প্রাণীর মাইগ্রেশনে ভূমিকা রাখে। প্রথমেই এখানে দেখানো হয় জাম্বিয়ার বাদুড় মাইগ্রেশনের দৃশ্য। লাখ লাখ বাদুড় কিভাবে সঠিক সময়ে চলে আসে জাম্বিয়ার ছোট্ট এক বনে। সত্যিকারার্থেই তা আশ্চর্যের ব্যাপার। অ্যামাজনের বন যখন প্রচুর বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় তখন ফায়ার অ্যান্ট কি করে নিজেদেরকে দলীয় প্রচেষ্টার মাধ্যমে ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা করে তা নিখুঁতভাবে দেখানো হয়। গত দশ হাজার বছর যাবত আমাদের পৃথিবীর তাপমাত্রা স্থির ছিল যে কারণে সমস্ত প্রাণী নিজেদেরকে সুচারুভাবে খাপ খাইয়ে নিতে পেরেছে। অ্যামাজন নদীর পানিতে টান পড়লে তার আশপাশের চরে দৈত্যাকার নদীর কচ্ছপ ডিম পাড়ার সুযোগ পায়। হাজার হাজার কচ্ছপের এক মিলনমেলা দেখা যায়। সবারই উদ্দেশ্য এক থাকে। কিন্ত সমস্যা হল ওয়েদার প্যাটার্নের পরিবর্তনের কারণে অনেক ডিম ফুটে বাচ্চা হওয়ার পূর্বেই ডিমগুলো পানির নিচে তলিয়ে যায়। যা কচ্ছপদের বর্তমান এবং ভবিষ্যত জীবনকে আরো বিপন্ন করে তুলছে। এই পর্বের সবথেকে আশ্চর্য করে দেওয়ার মত অংশ ছিল গোবি মরুভূমির উটদের ভিডিও ধারণ। এই অসাধারণ এবং বিলুপ্তির কাছাকাছি বন্যপ্রাণীটির ভিডিও ধারণ না করলে হয়তবা অনেকেই মহা সংকটাপন্ন এই প্রাণীদের ব্যাপারে অজ্ঞই হয়ে থাকত। গোবি মরুভূমির এই উটদের যদিও পূর্বে প্ল্যানেট আর্থের প্রথম সিরিজে দেখানো হয়েছিল কিন্ত আমার মত হল এরকম মহাবিপন্ন প্রাণীদের ঘন ঘনই মানুষের সামনে নিয়ে আসা উচিত। তাহলে মানুষ বুঝবে এই অসাধারণ প্রাণীরা বিলুপ্তির কত কাছাকাছি চলে গিয়েছে যেখান থেকে তারা হারালে আর তাঁকে পুনরোদ্ধার করা সম্ভব নয়। এই পর্বে বিহাইন্ড দা সিন্ বা পর্দার আড়ালের দৃশ্যগুলো ছিল দেখার মত। যারা আমাদের জন্য এত সুন্দর ভিডিওগুলো করে তাদের যে কিরকম কষ্ট করতে হয় তা বিহাইন্ড দ্য সিন দেখা ছাড়া বুঝে উঠা মুশকিল।

চতুর্থ পর্বের বিষয় হল ওশন বা সাগর। যেখানে স্রোত আছে সেখানেই জীবনের ভান্ডার আছে। সাউথ আফ্রিকার সমুদ্রের তীরের কাছে স্রোতের জন্য হাজির হয় একসাথে ডলফিন , গ্যানেট পাখি এবং আরো অনেক শিকারী মাছ। সবার উদ্দেশ্য একটাই ম্যাকেরেল ( mackerel) মাছের ঝাকের পিছনে সবাই ছুটছে। ডলফিন ম্যাকেরেল মাছ কে ফাঁদে ফেলে নিচ থেকে আক্রমণ করে আর গ্যানেট পাখি উপর থেকে এসে পানির ভিতরে গিয়ে মাছ শিকার করে। সমুদ্রের স্রোত যে সমুদ্রের উপরিপৃষ্ঠেই এরকম জীবনের ভান্ডার সঞ্চার করে এরকম নয়। প্রাণীদের জৈব বর্জ্য গিয়ে জমা হয় সমুদ্রের তলদেশে। তা আবার ফাইটো প্লাঙ্কটনের পুষ্টির সঞ্চার করে। বায়ুমন্ডলের অর্ধেকের থেকেও বেশি অক্সিজেন আসে এই ফাইটো প্লাঙ্কটন হতে। ফাইটো প্লাঙ্কটন বিহীন সমুদ্রের মানে হল এক জলা মরুভূমি। জলবায়ু পরিবর্তন কে ধীরগতি করার জন্য ফাইটো প্লাঙ্কটনের গুরুত্ব অপরিসীম। গালাপাগোস আইল্যান্ডের ইগুয়ানাদের নিয়ে অসংখ্যবার অসংখ্য ডকুমেন্টারিতে ফিচার হয়। কিন্ত তারপরেও মনে হয় এই প্রাণীটিকে নিয়ে এখনো অনেক কিছু জানা বাকি আছে। ইগুয়ানা হল সম্পন্ন ভেজিটেরিয়ান সরীসৃপ। কিন্ত তারা যে আইল্যান্ডে থাকে সেখানে কোন ভেজিটিরিয়ান কোন উদ্ভিদ নেই। এজন্য তাদেরকে ডাইভ করতে হয় সমুদ্রের গভীরে। কিন্ত তার এই ডাইভিং এর জন্য অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। এই পুরো বিষয়টা অত্যন্ত সুনিপুনভাবে এই পর্বে দেখানো হয়। নরওয়ের সল্টসট্রম্যান স্ট্রেইট (Saltstraumen strait) তীব্র স্রোতের জন্য বিখ্যাত। এই তীব্র স্রোতের মধ্যে অন্য প্রাণীদের টিকে থাকাটা কষ্টকর হলেও আইডার হাঁস (Eider duck) নিজেকে খুব ভালোভাবে মানিয়ে নিয়েছে। এই পর্বে সমুদ্রের সাথে ম্যানগ্রোভ ফরেস্টের সম্পর্ক কে দেখানো হয়। এছাড়াও ফকল্যান্ড আইল্যান্ডের পেঙ্গুইনদের জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে নিজেদেরকে মানিয়ে নিতে কষ্ট হচ্ছে তা দেখানো হয়। এ বছর ওয়াইল্ডলাইফ ক্যামেরাম্যান ব্রেটি গ্রেগরির (Bretie Gregory) এর তিমি মাছের একটা ভিডিও ভাইরাল হয়। যেখানে দেখা যায় তিমি মাছ হা করে আছে বড় করে আর ছোট ছোট মাছ তিমি মাছের মুখের ভিতর এসে পড়ছে। এই ভিডিওটা কিন্ত এই পর্বেরই অংশ। আর তিমিমাছের এটা নতুন অ্যাডাপশন। তিমি মাছ সাধারণত এভাবে তার খাবার খায় না। এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানার জন্য আপনাকে ডকুমেন্টারিটা দেখতে হবে। সব এখানেই বলে দিলে ডকুমেন্টারি দেখে মজা পাবেন না।

শেষ পর্ব করা হয় হিউম্যান বা মানুষ নিয়ে। অর্থাৎ বর্তমান পৃথিবীর জন্য মানুষ অন্যতম এক শক্তি। যে শক্তি পৃথিবীকে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন শেইপ দিচ্ছে। কখনো তা ভালোর দিকে আবার কখনো তা খারাপের দিকে। এ পর্বে বিভিন্ন কনজারভেশন গ্রুপের কাজ তুলে ধরা হয়। যারা বিভিন্ন বাধা বিপত্তিকে সামনে রেখে পৃথিবী রক্ষার কাজে ব্রত হয়েছেন। আসলে এই পর্বটা গত বছরের বিবিসির Extinction: The Facts এবং ২০১৯ এর Climate Change: The Facts এর সমন্বয় বললে ভুল বলা হবে না। কিন্ত বরাবরের মতই এই পর্বেও সাউথ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলো বিশেষ করে বাংলাদেশে উপকূলীয় অঞ্চলগুলো কিভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অন্যান্য অনেক আপদের পাশাপাশি লবনাক্ততার আপদেও পতিত হয়েছে এ বিষয়টা বারবার উপেক্ষিত হচ্ছে। বিবিসির হাই বাজেট এক ঘন্টার ডকুমেন্টারিগুলোতে বাংলাদেশ এবং তার আশপাশ উপকূলীয় এলাকা কি পাঁচটা মিনিটের জন্য ফোকাস হতে পারে না ? এটা বরাবরই তারা উপেক্ষা করে আসছে। এটা ইচ্ছাকৃত নাকি অনিচ্ছাকৃত তা আমার জানা নেই। এই বিষয়টা বিবিসি এবং বিবিসির মত অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যারা এ টাইপের ডকুমেন্টারি নিয়মিত বানাচ্ছে তাদের উচিত যে আমাদের এ অঞ্চল কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা নিয়ে বিস্তারিত খুটিনাটি সহকারে তুলে ধরা।

এই ডকুমেন্টারিকে যদি আমি পয়েন্ট দান করি তাহলে দশে সাড়ে সাত দিব। আমার নিকট ডকুমেন্টারির শিরোনাম A perfect Planetএটা যথাযথ মনে হয় নি। সাব্জেক্ট ওয়াইজ অপ্রাসঙ্গিক ভিজুয়ালাইজেশন করা হয়েছে অনেক। অনেকটা জোড় করে নির্দিষ্ট বিষয়ের সাথে অন্য বিষয় দেখানো হয়েছে বলে আমার মনে হয়েছে। আমার নিকট ডকুমেন্টারির টাইটেল অনেক বড় একটা বিষয় মনে হয়। যার উপস্থিতির অভাবে প্রতিটা পর্বেই আমি পেয়েছি। যাইহোক, সব মিলিয়ে এই পুরো সিরিজটা উপভোগ্য ছিল। আমি মনে করি শেষ পর্বটার আরো কিছু এডিশন বের করা উচিত ছিল। অর্থাৎ অঞ্চল ভিত্তিক কনজারভেশন স্টোরি তুলে ধরতে পারলে ভাল হত। এবং অঞ্চল্ভিত্তিক জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য কি সমস্যাতে আমরা পড়তে যাচ্ছি তা নিয়ে অঞ্চলভিত্তিক এডিশন ওয়াইজ করলে ভাল হত। বিবিসিই তার অনেক ডকুমেন্টারি বাচ্চাদের জন্য ভিন্ন এডিশন বানায়। বিবিসির যেহেতু ভারতে তাদের নিজস্ব চ্যানেল সনি বিবিসি আর্থ আছে সেখানে অঞ্চলভিত্তিক সাবকন্টিনেন্ট কে অগ্রাধিকার দিয়ে একটা পর্ব প্রচার করতেই পারত। যাই হোক, সামনে আরো অনেক ডকুমেন্টারি আসছে আসা করি সেখানে আমাদের উপমহাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে আলোচনা আসবে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.