‘মাই অক্টোপাস টিচার’ এর যে অনুভূতি আমাকে গ্রহণ করে; রিভিউ

‘মাই অক্টোপাস টিচার’ এর যে অনুভূতি আমাকে গ্রহণ করে; রিভিউ

অস্কারে যারা বিজয়ী হয় বিশেষ করে যে সমস্ত ছবি এবং ডকুমেন্টারি তার ভালো একটা অংশ সম্পর্কে মানুষ জানতে পারে বিজয়ী হওয়ার পর। অমুক ছবি বা ডকুমেন্টারি অস্কার জিতেছে অথবা অমুক কোন পুরষ্কার জিতেছে তার মানে সেখানে বিশেষ কিছু আছে। অর্থাৎ ঐ তথ্যচিত্রের বিশেষ কোন আবেদন আছে যে কারণে সে বিজয়ের পদক অর্জন করে। এটা অনেক সময় সঠিক হয় আবার বেঠিকও হয়। আবার অনুভূতিও মানুষ থেকে মানুষের ভিন্ন হয়। বিচারকদের অনুভূতি আর মফস্বলের কোন বালকের অনুভূতি একই রকম যে হবে না তা সহজেই বলে দেওয়া যায়। তারপরেও কিছু অনুভূতি থাকে যা স্থায়ী যা সবাইকেই স্পর্শ করে। ২০০৯ তে The Cove’ এর অস্কার বিজয়ের পর ২০২১ এ My Octopus teacher’ প্রথম কোন ডকুমেন্টারি যা সরাসরি ওয়াইল্ড লাইফ এর সাথে সম্পর্কিত।

পূর্বের কিছু ওয়াইল্ডলাইফ ডকুমেন্টারির উদাহরণঃ

কোন নির্দিষ্ট প্রাণী বা কোন নির্দিষ্ট প্রাণীর পরিবার নিয়ে বেশ কিছু ডকুমেন্টারি দেখার সুযোগ আমার হয়েছে। যেমনঃ ২০০২ সালের A wild Dogs Story, চার্লি হ্যামিলটন জেমসের ( Charlie Hamilton James) ২০১৩ সালের Giant otters of the Amazon, আলোচিত এবং ভাইরাল হওয়া কালো ভাল্লুক লিলিকে নিয়ে করা ২০১৪ সালের ডকুমেন্টারি A bear with a bounty,২০১৯ সালে একটা হাম্পব্যাক তিমি কে নিয়ে করা Humpback whales A detective Story , এছাড়া আলোচিত ওর্কা তিমি কে নিয়ে করা A Killer Whale called Luna , ২০১১ সালের ডকুমেন্টারি My life as a Turkey এরকম অসংখ্য ডকুমেন্টারি দেখার সুযোগ হয়েছে। এছাড়া নির্দিষ্ট একটা অক্টোপাস কে নিয়েও করা ডকুমেন্টারি Octopus in my House দেখার সুযোগ হয়েছে। এই ডকুমেন্টারিগুলোর উপর ভিত্তি করে মানুষ এবং বন্যপ্রাণীর মধ্যকার সম্পর্কে কে বেশ কয়েক ভাগে করা যায়। যে সম্পর্কের উপর দাঁড়িয়ে মূলত এই ডকুমেন্টারিগুলো বানানো হয়।

Observing the subject from a distance: কোন বন্য প্রাণীকে শুধুমাত্র দূর থেকে অবলোকন করে ডকুমেন্টারি বানানো। অর্থাৎ এক্ষেত্রে যেটা হয় বন্য প্রাণী এবং মানুষের মধ্যে সর্বদা একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় থাকে । মানুষ এখানে তার অস্তিত্ব জানান দিতে চায় না। কেননা এতে করে বন্য প্রাণীর স্বাভাবিক বন্য স্বভাব অবলোকন করা সম্ভব নাও হতে পারে। এটাইপের ডকুমেন্টারি হল, A Wild Dogs story, Humpback Whales A detective story, Cheetahs growing fast এটাইপের তথ্যচিত্রে দেখা যায় ক্যামেরাম্যান যতটুকু সম্ভব তার অস্তিত্ব কে নির্দিষ্ট বন্যপ্রাণী হতে লুকিয়ে রাখে বা যতটুকু সম্ভব কাছে না ঘেঁসে দূর থেকে সাব্জেক্টের কর্মকান্ড ডকুমেন্ট করে।

Being a member of Subject: বন্যপ্রাণীকে হুবুহু নকল করার চেষ্টা করে দূরত্ব কমানো। এরকম তথ্যচিত্রে যা হয় তাহল নির্দিষ্ট ডকুমেন্টিরিয়ান কোন বন্যপ্রাণীর সাথে তার জন্ম থেকেই একটা বন্ড তৈরি করা শুরু করে যাতে করে একসময় ঐ বন্য প্রাণীরা ভাবতে বসে যে এই ব্যক্তিও আমাদের মত কোন একজন। এটা অনেক কঠিন এক কাজ। তবে অনেক ডকুমেন্টিরিয়ান তার প্রজেক্টের স্বার্থে এই কাজ করেন। My Life as a Turkey এ ধরণেরই ডকুমেন্টারি।

Being a friend of Subject: বন্যপ্রাণীর সাথে এরকম সম্পর্ক রাখা যে সে আশ্বস্ত হয় যে তথ্যচিত্রের নির্মাতাদের দ্বারা প্রাণী কোনরকম ক্ষতিগ্রস্ত হবে না । অর্থাৎ বন্যপ্রাণী তাকে কোন শিকারী হিসেবে চিহ্নিত করবে না। তাকে তার পাশে থাকতে দিবে। তার ক্যামেরা এবং এ সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামাদি দেখে প্রাণী ভয় পাবে না। অর্থাৎ তাকে একরকম প্রতিবেশী মনে করবে যার দ্বারা সে কোনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

মাই অক্টোপাস টিচারএবং ক্রেইগের হতাশাগ্রস্ত জীবনঃ

মাই অক্টোপাস টিচারউপরের তৃতীয় সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে বানানো একটি ডকুমেন্টারি। ক্রেইগ ফস্টার‘ ( Craig Foster) একটি সাধারণ অক্টোপাসের ( Common octopus / Sci: Octopus vulgaris) সাথে এক অসাধারণ সম্পর্ক গড়ে তোলে। এই পুরো সম্পর্কের মাঝে বেশ কিছু রসায়ন ধরা দেয়। প্রথম শুরুটা এরকম ক্রেইগ একটা সময় তার জীবন এবং ক্যারিয়ার নিয়ে হতাশাগ্রস্ত ছিল। আমরা যদি সত্যিকারার্থে ক্রেইগের ক্যারিয়ার দেখি তাহলেও দেখতে পাব যে তার জীবনে মাই অক্টোপাস টিচারএর পূর্বে আহামরি আর বড় কোন অর্জন নেই। একজন ওয়াইল্ড লাইফ ফিল্ম মেকারের জন্য এটা একঘেয়েমিতার এক কারণ হতে পারে। ক্রেইগ বিষ বছর আগে কালাহারিতে গিয়ে ‘The Great danceনামে একটি ফিল্ম বানান । এরপর হতে তার জীবন ধীরে ধীরে নিস্তেজ হতে থাকে। শেষ দিকে তার দীর্ঘদিনব্যাপী ঘুমও হচ্ছিল না। তার কারণে তার পরিবারও ভুগছিল। সবরকম চাপ সহ্য করতে না পেরে সে ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছিল। কোন কাজেই তার একাগ্রতা ছিল না। এমনকি নতুন করে ক্যামেরা ধরা এবং নতুন কোন মুভি বানানো কোনটাই তার ইচ্ছের মধ্যে ছিল না। তার মনে হচ্ছিল তার জীবনের উদ্দেশ্য খন্ড বিখন্ড হয়ে যাচ্ছে। তার সন্তানের জন্য নিজেকে এক ব্যর্থ পিতা মনে হতে থাকল। একটা সময় মনে হল তার এক ঘেয়েমি জীবনের মাঝে পরিবর্তন আনতে হবে।

ক্রেইগ এ ব্যাপারে তার ছোটবেলা আর কালাহারিতে মুভি বানানোর সময় যে আদিবাসীদের সাথে সময় ব্যয় করেছে তাদেরকে সামনে রেখে সে তার জীবনের নতুন অর্থ খুঁজে বের করার চেষ্টা করল। ক্রেইগদের সাউথ আফ্রিকায় আটলান্টিকের তীর ঘেষে এক বাংলো ছিল। ওখানকার সমুদ্রে থাকা কেল্পফরেস্টে তার নিয়মিত সাতার কাটা তার ছোটবেলার অংশ। তাই সে আবার মনে করে তার এই হতাশা কাটানোর একমাত্র চাবিকাঠি আবারো সমুদ্রে ফিরে যাওয়া।

অক্টোপাসের সাথে সাক্ষাৎঃ

আটলান্টিকের বরফ শীতল ঝড়ো আবহাওয়ার পানিতে সাতার কাটা যতটা বলা সহজ করা ঠিক ততটাই কঠিন।পানির তাপমাত্র কমে আট থেকে নয় ডিগ্রী সেলসিয়াসে এসে ঠেকে। প্রথমে মনে হয় ঠান্ডার কারণে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। কিন্ত একবার শরীর ছেড়ে দিলে ধীরে ধীরে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে উঠে। তখন সমুদ্রের অদ্ভুত সব সৌন্দর্য ধরা দিতে থাকে। ফস্টার সাতার কাটার জন্য স্কুবা ট্যাংক ব্যবহার করা হতে বিরত থাকে। কেননা তিনি মনে করেন স্কুবা ট্যাংক ব্যবহারের দ্বারা এই পানির নিচের জগতের সদস্যদের সাথে দূরত্ব তৈরি হয়। কিছুদিন পর ক্রেইগ ফস্টারের মনে হতে থাকে সে তার হারিয়ে যাওয়া অনুপ্রেরণা আবারো সে ফিরে পেয়েছে। তখন আবার সে নতুন করে সমুদ্রের নিচে ভিডিও করতে শুরু করে।

একদিন হঠাৎ করে খুব এক অদ্ভুত জিনিস ক্রেইগের চোখে পড়ে । তিনি দেখেন এক সাথে অসংখ্য ঝিনুকের স্তূপ হয়ে রয়েছে। অবস্থা দেখে মনি হচ্ছিল বিভ্রান্তিতে ফেলতে পারে এরকম কোন বস্তু । যা দেখে মাছও বিভ্রান্ত। এরপর হঠাৎ করে সেই স্তূপ ভেঙ্গে এক অক্টোপাস বের হয়। আলোচিত অক্টোপাসের সাথে ক্রেইগের এভাবেই প্রথম সাক্ষাৎ হয়। প্রথম প্রথম অক্টোপাস টা ক্রেইগ কে ভয় পেত। ক্রেইগের থেকে দূরত্ব রেখে নিজেকে কেল্পের কোন পাতা দিয়ে নিজেকে জড়িয়ে রেখে এক চোখ বের করে রেখে ক্রেইগ কে সে দেখত। ক্রেইগ তখনই বুঝে নিল এর কিছু বিশেষত্ব আছে যা তাকে নতুন করে কিছু শিখাবে। ক্রেইগের মতে অক্টোপাস হল একটা খোলস ছাড়া শামুকের মত। তার ভিতর এত এত বুদ্ধিমত্তা ! এটা সত্যকার অর্থেই মুগ্ধ হয়ে যাওয়ার মত। তার কাছে মনে হল এর ভিতর নিশ্চয়ই বিশেষ কিছু আছে যা আমাকে নতুন কিছু শিখাবে। এরপর থেকে নিয়মিত সে সময় করে অক্টোপাস্টির সাথে সময় কাটাতে শুরু করে। অক্টোপাস যেখানে যায় ক্রেইগও সেখানে যায়। অক্টোপাস কে সে নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে দেখতে থাকে। অক্টোপাসের দৃষ্টিসীমার মধ্যেই সে কাটাতে থাকে। ২৬ দিনের দিন ক্রেইগের সাথে অক্টোপাসের এক অভূতপূর্ব মূহুর্তের জন্ম হয়। ক্রেইগ তার হাত বাড়িয়ে দিলে অক্টোপাসও তার শুরওয়ালা হাত বাড়িয়ে ক্রেইগ কে স্পর্শ করে । অর্থাৎ অক্টোপাস এখন আর ক্রেইগের ব্যাপারে ভীত নয়। সে বুঝে নিয়েছে ক্রেইগ তার কোন ক্ষতি করবে না।

এরপর থেকে বেশ কিছুদিন ক্রেইগ আর অক্টোপাসের মধ্যকার এই রসায়ন ভালোই চলতে থাকে। অবস্থা এমন দাড়িয়েছিল যে ক্রেইগকেই অক্টোপাস অনুসরণ করা আরম্ভ করে। এর মাঝেই একদিন এক দুর্ঘটনা ঘটে ! ক্রেইগের কাছ হতে হঠাৎ করে এক লেন্স পড়ে যায়। লেন্স পড়ে গেলে অক্টোপাস ভয় পেয়ে চলে যায়। ক্রেইগের তখন প্রচন্ডরকম নিজের উপর খারাপ লাগা আরম্ভ হয়। অক্টোপাস ক্রেইগের ব্যাপারে এতটাই সতর্ক হয়ে যায় যে অক্টোপাস তার নির্দিষ্ট স্থানে (den) আর ফেরত আসে না। ক্রেইগের মনের মাঝে এ বিষয়টা বিশাল ঝড় তোলে। ক্রেইগ ফিরে এসে অক্টোপাস নিয়ে ব্যাপক স্টাডি করা শুরু করে। অক্টোপাসকে ফিরে পাওয়ার জন্য তার এই নতুন গবেষণা। সে নিজেকে গোয়েন্দা ভাবতে শুরু করে যে গোয়েন্দার একমাত্র দায়িত্ব হল তার হারানো বন্ধুত্ব কে পুনরোদ্ধার করা। ক্রেইগ তার হারানো অক্টোপাসের বিভিন্ন নিদর্শন পেতে থাকে। তার শিকারের চিহ্ন তার খাবারের অবশিষ্টাংশ ইত্যাদি জিনিস সে পেতে থাকে। সে টের পায় অক্টোপাসটি তার আশপাশেই আছে। এরপর হঠাৎ করে একদিন তার বন্ধু তার নিকট পুনরায় ধরা দেয়। অক্টোপাসটিকে ফিরে পাওয়া অনেকটা এরকম ছিল যে তার নিকট মনে হচ্ছিল অক্টোপাসটি তার দিকে তাকিয়ে হাই করছে এবং বলছে আমি তোমাকে বিশ্বাস করি

এভাবে দিন কাটতে থাকে। অক্টোপাসের নতুন নতুন আচরণ ক্রেইগ কে বিমোহিত করতে থাকে। এর মাঝে একদিন ক্রেইগ লক্ষ করে যে রাতের বেলা কিছু পাজামা হাঙ্গর (Pajama Shark) খাবারের খোঁজে প্রবাল থেকে প্রবালে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ক্রেইগের মনে হয় এই হাঙ্গরগুলো হয়তবা তার অক্টোপাসকেই খুঁজছে। ব্যাপারটাও আসলে তাই ছিল। পুরো ব্যাপারটা ঘটে ক্রেইগের চোখের সামনে। অক্টোপাসটিও এক পাথর থেকে আরেক পাথরের নিচে গিয়ে লুকোচ্ছিল। বিষয়টা ছিল এরকম যে অক্টোপাস ধরেই নিয়েছিল যে আমাকে যারা খুঁজছে তাদের বিরুদ্ধে আমি লুকিয়ে থাকা ছাড়া সত্যিকারার্থে আর কিছু করার উপায় নেই। এক পাথরের নিচে গিয়ে অক্টোপাসটি নিজেকে লুকিয়ে ফেলে। ক্রেইগ নিজেকে আশ্বস্ত করে যে এবারের মত তাহলে বেচে গেল। কিন্ত তার পরক্ষণেই এক পাজামা হাঙ্গর এসে অক্টোপাসের কিছু শূড় (Arms) কামড়িয়ে ধরে ঘুরতে থাকে। ক্রেইগ দেখতে পায় অক্টোপাসের কিছু শূড় হাঙ্গরের মুখে। আপাতত হাঙ্গর কিছু শূড় নিয়েই ক্ষান্ত দিল। ক্রেইগ দেখল তার অক্টোপাসটি খুব দুর্বল হয়ে কাতরাচ্ছে। অক্টোপাসের জন্য তার নিজ ডেনে ফিরে যাওয়টাই যেন খুব ক্লান্তিকর কাজ ছিল।

ক্রেইগ ফস্টার অনুভব করল অক্টোপাসটির কিছু ঘটলে তার নিজের মাঝেও অদ্ভুত অনুভূতি হতে শুরু করে। ফস্টার নিজের জীবনের অস্থায়ীত্ব নিয়ে চিন্তা করে। যে জীবনের ব্যাপারে আমরা কত অসহায় ! সে তার পরিবার তার সন্তান তাদের ব্যাপারেও চিন্তিত হয়ে পড়ে। ফস্টার কখনো কোন প্রাণীর ব্যাপারে চিন্তিত ছিল না। কিন্ত অক্টোপাস তাকে শিখিয়েছে কিভাবে অন্যদের অস্তিত্ব কে গুরুত্বের সাথে অনুভব করতে হয়। এ যেন এক অন্যরকম পরিবর্তন।

কিছুদিন পর আহত অক্টোপাসটি থেকে আবারো নতুন ছোট শূড় গজাতে থাকে। এরপর আবারো অক্টোপাস টি কয়েকদিনের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে উঠে। ফস্টার একদিন দেখতে পায় তার অক্টোপাসটি কি করে এক কাকড়া কে তাড়া করে তার খাদ্যে পরিণত করে। অর্থাৎ সে তার শিকারী রূপ পূণরায় ফিরে পেয়েছে।

এভাবে বেশ কিছু অদ্ভুত এবং আন্তরিক সময় কাটে অক্টোপাসটির সাথে। অক্টোপাসটি মারাও যায় ক্রেইগ ফস্টারের সামনে।

এ ডকুমেন্টারির যে দিকগুলো আমাকে স্পর্শ করেঃ

এই ডকুমেন্টারিতে ক্রেইগ এবং অক্টোপাসের সাথে আরো একজন সঙ্গ দান করেন। আর সে হল ক্রেইগের পুত্র টম ফস্টার ( Tom Foster). এই বিষয়টা সত্যিকারার্থেই ইন্টারেস্টিং একটা ব্যাপার আর তাহল নিজের ভালো লাগা জিনিসের সাথে আরেকজন প্রিয় মানুষকে কাছে পাওয়া এটা অন্যরকম অনুভূতি। ক্রেইগের মত ট্মও অনেক সময় কাটায় এই অক্টোপাসটির পিছনে। এই অক্টোপাসের পিছনে লম্ফঝম্প করতে করতে টম অনেকটা ছোটখাট মেরিন বায়োলজিস্টে পরিণত হয়। অর্থাৎ ক্রেইগের সাথে ঘুরতে ঘুরতে সমুদ্র এবং সমুদ্রের ভিতর যা আছে তা নিয়ে তার অনেক জ্ঞান হয়। এটা আমি দেখেছি প্রকৃতিবিদেরা চায় যে পরিবেশ এবং তার আশপাশের যে অনুভূতি তাকে স্পর্শ করছে তা যেন তার খুব আপনজনের মধ্যেও ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়।

এছাড়া এখানে আরো একটা ফ্যাক্ট আছে। কোন বন্য প্রাণীর খুব নিকটে বেশ কিছু সময় কাটালে মনে হয় এই প্রাণীটি সে আমার কথা বুঝছে। সে আমার কথাগুলো বুঝে। তখন নিজেকে খুব স্পেশাল মনে হয়। এরকম অনেক সময় কোন স্থানে চার পাঁচ জন দাঁড়িয়ে আছে হঠাৎ করে একটা প্রজাপতি কোন একজনের হাতে এসে বসল। বিষয়টা যেভাবেই চিন্তা করিনা কেন যার হাতে প্রজাপতি এসে বসল সে তখন নিজেকে অন্য জনদের থেকে বিশেষ কিছু মনে করে থাকে। জীবনের হতাশা কাটানোর জন্য এ মূহুর্ত গুলো অনেক জরুরি। এছাড়াও যদি কখনো মনে হয় কোন বন্যপ্রাণী আমার কথা শুনছে অথবা আমি তার অনুভূতিগুলোকে স্পর্শ করতে পারছি একে ব্যাখ্যা করার জন্য একটি শব্দ রয়েছে। একে Anthromorphism বলা হয়। যারা বন্যপ্রাণী কে ভালোবেসে তার পিছনে ছুটেন তারা প্রায়ই এরকম অনুভূতি পেয়ে থাকবেন। আপনি ক্যামেরা কোন প্রাণীর দিকে তাক করলেন সে এরকম এক অঙ্গভঙ্গি করল তখন আপনার নিকট মনে হবে সে যেন কোন পোজ দিচ্ছে। যদিও এখানে বিজ্ঞান কে নিয়ে আসলে এরকম অনুভূতির অস্তিত্ব নড়বড়ে হয়ে যায়। কিন্ত ঐ ব্যক্তি এরকম চিন্তার সারমর্ম বুঝে।

ঠিক এরকম পরিস্থিতি আমার ক্ষেত্রেও হয়েছে। আমাদের বাসার এরিয়ার মাঝে হাতে গোনা দু একটা গুইসাপ আছে। চারিদিক থেকে যদিও এদের আবাসস্থান সংকুচিত হয়ে আসছে কিন্ত আমাদের বাড়ি এবং বাড়ির পিছনে বেশ ঝোপঝাড় এবং পুকুর থাকার কারণে তারা এখনো নিজেদেরকে টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হচ্ছে। এদের থেকে প্রতি বছর দু একটা বাচ্চা গুই সাপ জন্মায়। এদের মধ্যে একটার সাথে এবছর আমার খুব ভাব হয়। প্রথম প্রথম সে আমাকে দেখা মাত্রই ছুট দিত। গুই সাপ তার পুরো জীবনের এ সময়টাতে সবচেয়ে দুর্বল এবং অসহায় থাকে। এমনকি মোরগ মুরগি বা ফার্মের কোন প্রাণী দ্বারাও অতি সহজেই সে আহত হতে পারে। আমার পক্ষে লকডাউনের সময়টাতে যতটুকু সম্ভব হয় বাচ্চাটিকে পর্যবেক্ষণে রাখার চেষ্টা করি। যেমনঃ অন্যান্য প্রাণীদের সাথে তার আচরণ, তার থাকার স্থান, তার বিশ্রামের সময়, তার অ্যাক্টিভ সময় এগুলো সব পর্যবেক্ষণ করতে থাকি। এ সময়টাতে আমার আড়াই বছরের ছেলে সাহিবআমাকে সঙ্গ দেয়। আমরা দুজনে মিলে গুই সাপেরবাচ্চটির একটি নামও দেই। তার ইংরেজি নামের সাথে মিল রেখে আমরা তার নাম রাখি মনিটর

ই নাম দেওয়ার উদ্দেশ্য হল যাতে করে আমরা সহজেই তাকে অন্য গুইসাপদের থেকে আলাদা করতে পারি।প্রথমে বাচ্চাটি আমাদের উপস্থিতি টের পেলেই সটকে পড়ত। কিন্ত ধীরে ধীরে সে আমাদের উপস্থিতি সমীহ করতে থাকে। একটা সময় এরকম হয় যে আমি তার আধা ফুটের মধ্যে প্রবেশ করলেও সে সড়ত না। আমার পক্ষে তার সবথেকে নিকটে গিয়ে ধীরস্থিরভাবে ছবি তোলা সম্ভব হয়।

এই ব্যাপারটা আমার নিকট অসাধারণ তৃপ্তি দিয়। প্রথম কথা হল এটা একটা বন্য প্রাণী বা ওয়াইল্ড অ্যনিম্যাল। তারপর হল আমি তার নিকটে হতে পেরেছি এমন পরিবেশে যা ক্যাপটিভ নয় অর্থাৎ সম্পন্ন এক প্রাকৃতিক পরিবেশে। তাই আমি কিছুটা হলেও বুঝি মাই অক্টোপাস টিচারতৈরি করতে গিয়ে কিরকম অনুভূতির ঢেউ তৈরি হয়েছিল ক্রেইগের অন্তরে। গুইসাপের বাচ্চাটির পিছনে ছোটার সময় আমি আমার সন্তান কে অনেক পাখি কে চিনাই। সে অনেক পাখির ডাক আইডেন্টিফাই করতে পারে। এমনকি সে পুরুষ এবং স্ত্রী দোয়েলের মধ্যেও পার্থক্য করতে সক্ষম। যদিও এ বয়সের বাচ্চার নতুন জিনিস শেখার সাথে সাথে পুরানো জিনিস ভুলে যায়।

তারপরেও প্রকৃতির ব্যাপারে তার মন আরো কৌতুহলী হয়ে উঠে। সে এরকম এরকম প্রশ্ন করে বসত যার উত্তর আমারো জানা ছিল না। যদিও প্রশ্নগুলো বাচ্চা সুলভ ছিল। একজন আড়াই বছরের বাচ্চা হতে কিরকম প্রশ্নই বা আশা করতে পারি। তাকে বেশ কিছু পোকামাকড় চিনানো হয়। তারপর বিভিন্ন উদ্ভিদের নাম শিক্ষা দেওয়া হয়। একজন ছোট বাচ্চার জন্য আমার নিকট এগুলোই অনেক মনে হয়েছে।

ক্রেইগ ফস্টারের এই অনুভূতিগুলোর সাথে আমার অনুভূতিও মিলে যায়। যারা ওয়াইল্ড লাইফ লাভার বা এন্থুসিয়াস্টিক তাদের মাই অক্টোপাস টিচার যে এক অদ্ভুত নাড়া দিবে তা আমি বলতেই পারি। সব মিলিয়ে এই ডকুমেন্টারি কে আমি দশে নয় দিব। আমি এই ডকুমেন্টারিতে কোন ভুল ইনফরমেশন পাই নি। এর ভিজুয়ালাইজেশন, সাউন্ড এডিট সব কিছুই ঠিক ছিল। Anthromorphism বা নরাত্বরোপ নন সায়েন্টিফিক আইডিয়া হলেও এটা ওভারল উপকারী একটা বিষয়। এ জিনিস প্রকৃতিকে রোবোটিক দৃষ্টিভঙ্গী থেকে না দেখে অনুভূতির স্থান থেকে দেখতে শেখায়। তাই নরাত্বরোপের প্রচার কে আমি ভুল বলব না।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.