‘রক্তচোষা গিরগিটি’ আমার চোখে যে ‘সুপার লিজার্ড’

‘রক্তচোষা গিরগিটি’ আমার চোখে যে ‘সুপার লিজার্ড’

ঝোপঝাড়ের নিকট দাড়ালে প্রায় সময়েই এক অনুভূতি হয়। মনে হয় কে যেন সামনে থেকে সড়ে গেল। বরই গাছের উপরে শুকনো স্বর্ণলতার ঝোপে খসখস শব্দ হয়। খুব নিরিখ করে কাছে গেলে মনে হয় খসখস শব্দ করে আরেকটু কি যেন সড়ে গেল। তখন মনে হয় এটা নিশ্চিতই কোন সাপ হবে। কিন্ত আরেকটু কাছে গিয়ে দেখা যায় গোমড়ামুখো এক গিরগিটি আমার চলাফেরা খুব আগ্রহের সাথে দেখছে। একেতো সরীসৃপরা দেখতে হয় অদ্ভুত। তারপরে আবার এর সুতীক্ষ্ণ নজর । আর বহুল প্রচলিত মিথ হল তারা নাকি এই নজরের মাধ্যমেই দূর থেকে রক্ত চুষে নেয়। কি অদ্ভুত মিথ ! সায়েন্স ফিকশন ফেইল । বলছিলাম রক্তচোষারকথা। একে আরো অনেক নামে ডাকা হয়। আমার জানামতে এর পরিচিত আরেকটি নাম হল কাকলাশ। এখানে একটা বিষয় স্পষ্ট করা দরকার বাংলাদেশে আগামিডি (Agamidae) পরিবারের আবিষ্কৃত গিরগিটির সংখ্যা এখন পর্যন্ত আট। এদের প্রত্যেকের শারিরীক গঠনের মধ্যে একে অপরের সাথে অনেক মিল থাকার কারণে যেকোন সাধারণ মানুষ এদেরকে এক নামে ডাকবে। আর তাহল রক্তচোষা। এদের ইংরেজি প্রচলিত নামেও অনেক মিল। এদের অনেকটার নামের সাথেই ‘Bloodsucker’ আছে। বন ঝুটিয়াল গিরগিটি বা বনবাসী রক্তচোষা (Calotes emma) বা ইংরেজি নাম Forest crested Lizard। এছাড়াও আছে হার্ডউইকার রক্তচোষা ( Calotes minor) বা ইংরেজি নাম Hardwicke’s Bloodsucker এই গিরগিটিটির সন্ধান বাংলাদেশে শুধুমাত্র একবার পাওয়া যায়। অর্থাৎ এর বাংলা নাম সরাসরি ইংরেজি থেকে অনুবাদকৃত। অর্থাৎ জনসাধারণের দেওয়া নাম নয়। যাই হোক এগুলোর একটাও আমাদের আলোচিত গিরগিটি নয় ।

আমাদের আলোচিত গিরগিটির রেকর্ডকৃত উল্লেখযোগ্য ইংরেজি নাম হল Common Garden Lizard, Garden Lizard , Oriental Garden Lizard , Eastern garden Lizard, Indian Garden Lizard, Changeable Lizard ,Crested tree lizard এবং Bloodsuckeri. বৈজ্ঞানিক নাম Calotes versicolor এবং স্থানীয় নাম (Vernacular name) রক্তচোষা এবং কাকলাশii। এই নামের মূল কারণ হিসেবে ধরে নেওয়া হয় পুরুষ গিরগিটির প্রজননকালে তাদের গলার (Gular) আশপাশ লাল রং ধারণ করে। তখন অনেকেরই অনুভূত হয় যে এই প্রাণী কারো রক্ত টেলিপ্যাথিক্যালি দূর থেকে চুষে নিচ্ছে। কিন্ত এটা প্রতিষ্ঠিত মিথ ছাড়া আর কিছু নয়। প্রজননকালে রং পরিবর্তন অনেক প্রাণীদের ক্ষেত্রেই ঘটে। ম্যান্ড্রিল বানরের নাক গাড় লাল রং ধারণ করে। আর গিরগিটি তো রং পরিবর্তনের জন্য বিখ্যাত। এই গিরগিটি নিয়ে আলোচনা করার মূল কারণ হল, আগামিডি পরিবারের গিরগিটিদের মধ্যে এই গিরগিটির বসবাসের এলাকা বা রেঞ্জ পৃথিবীতে সবথেকে বেশি। টিকটিকি নয় এমন গিরগিটিদের মধ্যে এই গিরগিটিই বেশি এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। তারপরে আরো বড় ব্যাপার হল এই গিরগিটি আরবান বা শহুরে ওয়াইল্ড লাইফের এক বিশাল অংশ জুড়ে আছে। অর্থাৎ আপনার বাড়ির পিছনের বাগানে যদি কোন গিরগিটির দেখা পান তাহলে নব্বই পার্সেন্ট সিউর থাকেন সে হল আমাদের এই আলোচিত গিরগিটি। এক চূড়ান্ত পোকা মাকড় ধ্বংসকারী (pest killer)। এরা পুরোপুরি বৃক্ষবাসী না হলেও এরা প্রয়োজনে গাছে চড়ে বেড়ায় বা খাদ্যের খোঁজে গাছে চড়ে। তাই আমাদের বাগানের পোকা মাকড়ের ধ্বংসের পিছনে এদের অনেক বড় ভূমিকা রয়েছে। ভারতীয় হার্পেটোলজিস্ট জেরি মার্টিন বলেন, বাগানের মধ্যে সবথেকে যে প্রাণিটিকে খুব সহজেই খুঁজে বের করা যায় তা হল এই বাগানের গিরগিটি। এর নামই garden lizard. কিছু গাছপালা যেখানে যথেষ্ট পরিমাণ ডালপালা রয়েছে সহজেই সেখানে এই গিরগিটি পাওয়া যেতে পারে। মূলত এরা নিজ নিজ এলাকা ঠিক করে রাখে। নিজ এলাকাতে অন্য পুরুষ গিরগিটিকে তারা প্রবেশ করতে দেয় না। প্রবেশ করলেই তুমুল যুদ্ধ বেঁধে যায়। এক মূল পুরুষের অধীনে অনেক স্ত্রী এবং বাচ্চা গিরগিটি থাকে। এরা নিজেদের মাথা সবসময় উঁচু নিচু করে প্রদর্শন করতে থাকে । পোকার খোঁজে থাকা এই গিরগিটি যে কাউকে ঘন্টাব্যাপী বিনোদন দিতে পারে iii

বাগানের এই প্রসিদ্ধ গিরগিটি কে অতি সহজেই যে কেউ চিহ্নিত করতে পারবে। স্থানভেদে এর গায়ের রং এর মধ্যে ভিন্নতা থাকলেও এর উপরের দিকটা প্রায়ই অলিভ সবুজ এবং নিচের দিকটা সাদা বর্ণের হয়ে থাকে। নাক থেকে পায়ু পর্যন্ত এর দৈর্ঘ্য ১০০ মিলিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। পুরো দেহের দৈর্ঘ্য ২৫০ থেকে ৪০০ মিলিমিটার পর্যন্ত হয়। অন্যান্য Calotes প্রজাতির গিরগিটি থেকে একে ভিন্ন করার উপায় হল এর শরীরে আড়াআড়িভাবে থাকা আশ দেখে। এই আশসমূহ পিছনে এবং উর্ধ্বমুখী করে তাক করা থাকে। পুরো শরীর জুড়ে ৩৫ থেকে ৫২ টির মত আশ থাকে। সামনের দিকের পাঁচটি আঙ্গুলে ধারালো তীক্ষ্ণ নখর এবং পিছনের পায়ের পাঁচটি আঙ্গুলে পাঁচটি বাকানো নখর করে থাকে। পুরুষ গিরগিটির লেজ স্ত্রী গিরগিটির লেজের তুলনায় অনেক বড় হয়। এছাড়াও পুরুষ থেকে স্ত্রী গিরগিটি আলাদা করার অন্যতম উপায় হল প্রজননকালে পুরুষ গিরগিটির লাল রং ধারণ করা। এছাড়াও স্ত্রী গিরগিটির পৃষ্ঠ বরাবর বিবর্ণ হলুদ রং এর দুটো দীর্ঘ দাগ দেখেও চিহ্নিত করা যায়। এছাড়াও পুরুষ গিরগিটির কাটার মত ঝুটি দেখেও আলাদা করা যায়। তবে বাচ্চা গিরগিটি এবং স্ত্রী গিরগিটির মধ্যে পার্থক্য করাটা একটু কঠিন বৈকি iv

ভারতের জনপ্রিয় পত্রিকা ‘The Hindu’-তে অভিষেক গুলশান (Abhishek Gulshan) এর একটি এই গিরগিটি নিয়ে একটা কলাম ছাপানো হয়। কলামের শিরোনাম ‘Why the common girgit is important to Delhi’ । কলামটি তথ্যপূর্ণ। এছাড়াও অভিষেকের অন্যান্য লেখাও অনেক ইনফরমেটিভ । কিন্ত তার এই কলামে আমার নিকট মনে হয়েছে সে আমাদের এই আলোচিত গিরগিটি সম্পর্কে একটা ভুল তথ্যদান করেছে। সে উল্লেখ করেন যে এরা নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য লেজ ফেলে দেয়। এই বিষয়টা অন্যান্য অনেক গিরগিটির জন্য সত্য হলেও আমার মনে হয়না এটা গার্ডেন লিজার্ডের বেলায় সঠিক। কেননা আমার জীবনে প্রত্যক্ষভাবে অনেকবার এই গিরগিটির সম্মখীন হয়েছি এবং অনেককে অনেকভাবে এদেরকে উত্ত্যক্ত করতে দেখেছি কিন্ত কখনো এদেরকে টিকটিকি বা অঞ্জলির মত লেজ ফেলে পালিয়ে যেতে দেখি নি। এ বিষয়টার উল্লেখ আমি জার্নালেও পেয়েছি। পুরুষ এবং স্ত্রী Calotes versicolor এর দৈহিক বৈশিষ্ঠ্য নিয়ে ডিটেইলস আলোচনা করা হয়েছে এরকম এক পেপারে বিষয়টা আলোচনা করা হয়েছে যে এই প্রজাতির গিরগিটি লেজ ফেলে দেয় না বা লেজ কে শরীর থেকে আলাদা করার কৌশল তারা গ্রহণ করে না v

এদের বিস্তৃত এলাকা ধরা হয় আফগানিস্তান,বাংলাদেশ, ভুটান, কম্বোডিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া (সুমাত্রা) , মিয়ানমার, নেপাল,পাকিস্তান,পশ্চিম মালোয়শিয়া, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ পূর্ব ইরান,দক্ষিণ চীন, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, লাওস সহ পৃথিবীর অনেক স্থানেই এদের পাওয়া যায়। তবে বেশ কিছু এলাকাতে এদেরকে নতুন করে পরিচয় করানো হয়েছে। অনেক জায়গায় ইচ্ছেকরে আবার কিছু জায়গাতে দুর্ঘটনাক্রমে। এখন এই গিরগিটিদের কে মালোয়শিয়ার বর্নেয়ো,মালদ্বীপ, আমেরিকার ফ্লোরিডা, অস্ট্রেলিয়া, সিচিলিস , ওমান সহ পৃথিবীর অনেক স্থানেই পাওয়া যায়। তবে এখন পর্যন্ত কোথাও একে ব্যাপকভাবে ইনভেসিভ বা আগ্রাসী প্রজাতির প্রাণী হিসেবে ঘোষণা করা হয় নি। বেশিরভাগ স্থানেই এদেরকে নতুন করে পরিচয় করানো হলেও এদের অবস্থান কে স্বাভাবিক (naturalized) হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে vi vii। তবে কিছু অঞ্চলে এদের ব্যাপক অবস্থানের কারণে পূর্বে থাকা গিরগিটিদের বিভিন্ন সমস্যার সম্মখীন হতে হচ্ছে। যেমনঃ সিঙ্গাপুরে তারা একই পরিবারের (Agamidae) গ্রীন ক্রেস্টেড লিজার্ড (Green Crested Lizard) এর জন্য হুমকি হয়ে দাড়াচ্ছে viii। এছাড়াও মৌরিতিয়ার স্থানীয় টিকটিকিরাও এই গিরগিটির জন্য সমস্যার সম্মখীন হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রীয় পলিসি অনুযায়ী এই গিরগিটি অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় গিরগিটিদের জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি বয়ে আনতে পারে। তাই এই গিরগিটির দেখা পেলে তা সড়ানো সংক্রান্ত আইন সেখানে কার্যকরix। ফ্লোরিডাতে বাহিরের প্রাণী হিসেবে এদের অবস্থান প্রকৃতিতে কিরকম ভূমিকা রাখছে তা এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নয়x। বাংলাদেশের প্রায় সব জায়গাতেই এদের দেখা পাওয়া যায় xi। আমি ব্যক্তিগতভাবে এদের অবস্থান সব জায়গাতে দেখেছি। শহর , গ্রাম, বন জঙ্গল, ইট কাঠের মাঝে সবখানে। এরা মূলত এদের খাদ্যের উপর নির্ভরশীল। এদের খাদ্যের যোগান যেখানে মিটবে সেখানেই এই জীব নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবে। এরা মূলত পোকামাকড় খায়। কিন্ত অন্যান্য অনেক প্রাণীই এরা ভক্ষণ করতে সক্ষম। এদের খাবারের লিস্টে আছে কেঁচো, ছোট শামুক ( Molluscans gastropods) , মথ, মথের ক্যাটারপিলার, প্রজাপতি, প্রজাপতির লার্ভা, গুবরে পোকা, হেমিপটেরা, উচ্চিংড়ে, পিপড়া, মাছি, বোলতা, টারমাইট, ঘাসফড়িঙ, তেলাপোকা, ফড়িঙ, এয়ার উইগ ( Ear wigs) , ম্যান্টিস, মিলিপিড এবং সেন্টিপিড, মাকড়সা, ব্যাং, বাচ্চা গিরগিটি, টিকটিকি, ঢোড়া সাপ, ঘরগিন্নি সাপ, চড়ুই পাখি , ছোট ইঁদুর, ঘাস, পাতা প্রভৃতি অসংখ্য জিনিস এরা খেতে অভ্যস্ত xii অর্থাৎ আমাদের আশেপাশে যত প্রকার পোকামাকড় আছে তাদের প্রায় সকলেই এর খাদ্য। এই পোকা মাকড়দের বেশিরভাগই আমাদের গাছ পালা, বাগান এবং ফসলের জন্য ক্ষতিকারী হিসেবে সাব্যস্ত হয়ে আসছে। এদেরকে প্রাকৃতিকভাবে ধ্বংস করার জন্য গিরগিটির বিকল্প নেই।

এদের প্রজননকাল এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। স্ত্রী গিরগিটি ছয় থেকে পঁচিশটি পর্যন্ত ডিম পারে। সাধারণত আদ্রতাযুক্ত মাটির ভিতর থেকে ৩৭৪৭ দিন পর ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয় xiii। স্ত্রী গিরগিটি ছয় মাস পর্যন্ত শুক্রাণু নিজের মধ্যে জমা করে রাখতে পারে xiv

অনেকেই এদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেন যে এই গিরগিটিদের কামড়ে বিষ আছে কিনা। কিন্ত বাস্তবিকপক্ষে এরা ইগুনিয়ান (Iguania) লিজার্ড। এ ব্যাপারে আমি ব্যক্তিগতভাবে লিজার্ডের ভেনোম গ্লান্ড নিয়ে ব্যাপকভাবে গবেষণা করছেন এমন একজনের সাথে মেসেজ আদান প্রদান করি। কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটির ব্রায়ান (Brien Grieg fry) কে আমি জিজ্ঞেস করি যে, ওরিয়েন্টাল গার্ডেন লিজার্ডেড় কোন ভেনোম গ্লান্ড আছে কিনা। এই প্রশ্নের জবাবে সে বলে, “ওরিয়েন্টাল গার্ডেন লিজার্ড হল ইগুনিয়ান লিজার্ড। এ ব্যাপারে তারা পূর্ব থেকেই বলে আসছে যে এদের যে গ্লান্ড আছে তা প্রারম্ভিক এক গ্লান্ড । যা ভেনোম উৎপাদনে সক্ষম নয়। এছাড়াও এ ব্যাপারে তাদের ডিটেইলস রিসার্চ পেপার রয়েছে যেখানে প্রায় সব রকমের সরীসৃপদের ভেনোম গ্লান্ড নিয়ে পারস্পরিক তুলনামূলক আলোচনা করা হয়। তাদের এ সংক্রান্ত পেপারের শিরোনাম হচ্ছে ‘ Squeezers and Leaf-Cutters : Differential Diversification and Degeneration of the venom system in Toxicoferan Reptilesxv

ওরিয়েন্টাল গার্ডেন লিজার্ড কে রক্তচোষাবা কাকলাশযে নামই দেওয়া হোক না কেন এ প্রাণী আমাদের ইকোলজিতে এক গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নিয়ে আছে। এ প্রাণীর এই অবস্থান অন্যান্য প্রাণীদের পাশাপাশি মানুষকেও সরাসরি উপকার পৌছায়। কিন্ত ক্ষেত খামারে পোকা দমনের জন্য ব্যাপকভাবে কীটনাশক ব্যবহার এদের অস্তিত্ব কে হুমকির সম্মখীন করছে। অনেকেই মনে করে মানুষ দ্বারা পিটিয়ে মারাটাই এদের জন্য বড় হুমকি। কিন্ত বিষয়টা আমার নিকট এরকম মনে হয়না। আমার নিকট এদের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি মনে হয় বিড়াল এবং আমাদের পোল্ট্রি মুরগিদের। বিড়াল এবং পোল্ট্রি মুরগি এই প্রাণীদের শিকার করতে সিদ্ধহস্ত। আমাদের উপমহাদেশে বিড়াল দ্বারা কি পরিমাণ সরীসৃপ নিহত হয় তার নির্দিষ্ট কোন ডেটা না থাকার কারণে অনেকেই এ বিষয়টা বুঝতে অক্ষম। কিন্ত আমরা যদি অস্ট্রেলিয়ার এ সংক্রান্ত ডেটা সামনে রাখি তাহলে বিষয়টা কিছু হলেও আঁচ করতে পারব। অস্ট্রেলিয়াতে প্রতিদিন বিড়াল দুই মিলিয়ন সরীসৃপ হত্যা করে । আর এই সরীসৃপ হত্যা শুধুমাত্র যে ফেরাল বা বন্য বিড়াল দ্বারাই হয় ব্যাপারটা এরকম নয় গৃহপালিত এবং বন্য উভয় মিলেই দুই মিলিয়ন সরীসৃপ হত্যা করেxvi। এ ব্যাপারটা শ্রীলঙ্কার প্রয়াত হার্পেটোলজিস্ট আসলেম ডে সিলভাও তার এক লেখাতে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “গৃহপালিত বিড়াল, পোল্ট্রি মুরগি , কানাকুয়া মূলত আগামিড গিরগিটিদের , টিকটিকি, অঞ্জলি, সাপ এদেরকে শিকার করে হত্যা করে। মানুষের ঘনবসতি বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে বিড়াল এবং মুরগির সংখ্যাও বেড়েছে। যা নিঃসন্দেহে এই সরীসৃপদের জন্য হুমকি। এক পাইলট রিসার্চে বের হয়ে আসে যে, শ্রীলঙ্কার গামপোলা নামে এক গ্রামের ৯৯ টা বাড়ির মধ্যে ৪৯ টা বাড়িতেই বিড়াল আছে। আর মুরগি ১৬ টা বাড়িতে পালন করা হয়। এই প্রাণীরা মিলে বারো মাসে ৩৪৬ টা সরীসৃপ এবং ব্যাং হত্যা করে। এই সময়টাতে ডি সিলভাও রিসার্চের অংশ হিসেবে তিনটা বিড়াল পালেন । দেখা যায় এরা সর্বমোট ৩৯ টা সরীসৃপ হত্যা করে। অন্যান্য সরীসৃপদের পাশাপাশি ওরিয়েন্টাল গার্ডেন লিজার্ড ছিল চারটি । এটা ১৯৯২ সালের এক গবেষণা ছিলxvii। এই রিসার্চ শ্রীলঙ্কা কে সামনে রেখে করা হলেও এই গবেষণা বাংলাদেশের জন্যও খাটে। আমাদের গ্রাম এবং শহুরে ঘরবাড়িতে অসংখ্য বিড়াল যত্রতত্র ঘুরে বেড়ায় । এরা এটাইপের ছোট গিরগিটিদের শিকার করতে সিদ্ধহস্ত। এছাড়াও অনেক সময় মানুষও এদেরকে ইচ্ছাকৃতভাবে নির্মমভাবে কোন কারণ ছাড়াই হত্যা করে। এই কাজ খুবই ঘৃণিত এবং নিন্দনীয়। এ থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে এবং অন্যদেরকে শক্তভাবে নিষেধ করতে হবে। এ ব্যাপারে সোশ্যাল মিডিয়াতে সচেতনতার জন্য ক্যাম্পেইন করলে আশা করি তা কিছুটা হলেও মানুষের মাঝে বোধোদয় হবে।

যদি এই গিরগিটির নতুন করে কোন নামকরন করা সম্ভব হত তাহলে আমি এর নাম দিতাম সুপার লিজার্ড। কেননা, রক্তচোষার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। যদি রক্ত চোষতে পারত তাহলে তো নিঃসন্দেহে সে সুপার লিজার্ড হত। কিন্ত রক্ত না চুষেই সে প্রকৃতির জন্য যত উপকার পৌছায় তাতেই তার নাম দেওয়া উচিত ছিল সুপার লিজার্ড

References:

https://reptile-database.reptarium.cz/species?genus=Calotes&species=versicolor

ii Red List of Bangladesh: Reptiles

iii  https://sustain.round.glass/urban-jungle/at-home-with-herps/

ivIndicative 10 Project National Resource Material (Oriental Garden Lizard) ; An invasive animal CRC Proect : Page no: 2-3.

Sexual dimorphism and Geographic variation of Calotes Versicolor in northern and southern thailand Published on Agriculture and natural resources 50 (2016) Pages no: 474- 482. Get the article here: https://www.sciencedirect.com/science/article/pii/S2452316X16302733

vi  Calotes Versicolor (Squamata: Agamidae): A new invasive squamate for Borneo ; Current Herpetology : 27(2) : 109-112 , December 2008

vii  Calotes Versicolor (Oriental Garden Lizard ) Diet ; Article in Herpetological review ; December 2015

ix  Indicative 10 Project National Resource Material (Oriental Garden Lizard) ; An invasive animal CRC Proect : Page no: 7-8.

Article ; A new exotic species in florida , The Bloodsucker Lizard , Calotes versicolor by Kevin M. Enge & Kenneth L. Krysko .

xi  Red List of Bangladesh: Reptiles; Page no. 109

xii  Calotes versicolor ( Oriental Garden Lizard ) . DIET An article from Herpetological Review ; Published on 20 February 2016 ; Page no: 626-628

xiii Red List of Bangladesh: Reptiles; Page no. 109

xiv  The establishment of crested tree lizard, Calotes versicolor , in Syechelles by PAT MATYOT.

xv  http://www.venomdoc.com/s/2017_Fry_Anguimorph-venom.pdf

xvi  https://www.abc.net.au/news/2018-06-22/chart-of-the-day-cats-kill-almost-2-million-reptiles-every-day/9894702

xvii De Silva: Current Status of the reptiles of Sri Lanka ; Page no: 139.

One thought on “‘রক্তচোষা গিরগিটি’ আমার চোখে যে ‘সুপার লিজার্ড’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *