অস্ট্রেলিয়ার আইকনিক প্রাণী ডিঙ্গো সমাচার

অস্ট্রেলিয়ার আইকনিক প্রাণী ডিঙ্গো সমাচার

বিজ্ঞানীরা যখন কোন নতুন প্রাণী আবিষ্কার করেন তখন তাদের দায়িত্ব বর্তায় সেই প্রাণীর বৈশিষ্ট্যের প্রতি খেয়াল রেখে তাকে নির্দিষ্ট শ্রেনীভুক্ত করা। তার পূর্বপুরুষ খুঁজে বের করা। পৃথিবীতে তার অস্তিত্ব কত বছর ধরে সেই প্রশ্নের উত্তর বের করা। যে ভূমিতে সে আবিষ্কৃত হল এই প্রাণী কে সে ভূমিরই নাকি বাহির থেকে আসা কোন প্রানী। ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর বের করা বিজ্ঞানীদের দায়িত্ব। এসব প্রশ্নের উত্তর বের করা সবসময় সহজ হয় না। অনেক সময় বিজ্ঞানীরাই কনফিউশনে পতিত হন। বারবার তাদের সিদ্ধান্ত বদলাতে হয়। আজকে ওরকমই এক প্রাণী নিয়ে কথা বলব। অস্ট্রেলিয়ান ডিঙ্গো  নিয়ে এই পুরো আর্টিকেল।

ডিঙ্গো আসলে কি ? এটা কি কুকুর নাকি কুকুরের মত অন্য কিছু যেরকম নেকড়ে, কায়োটি বা শিয়াল । আর যদি কুকুরই হয় তাহলে এটা কি পালিত কুকুর নাকি ফেরাল ডগ নাকি আসল ওয়াইল্ড ডগ। আর যদি ওয়াইল্ড ডগই হয় তাহলে এর আগমন কোথা হতে হয় ? এর কি আদিনিবাস অস্ট্রেলিয়াতেই নাকি অন্যকোন ভূমি থেকে আনা হয়। আর অন্যকোন ভূমি থেকে আনা হলে ডিঙ্গো কেন অন্য জায়গাতে এখন আর পাওয়া যায় না।

ডিঙ্গো নিয়ে মোটামুটি এতগুলো প্রশ্ন রয়েছে। আমি স্বাভাবিকভাবে একে বন্যকুকুর হিসবেই ধরে নিয়েছিলাম । কিন্ত যখন বিভিন্ন ডকুমেন্টারি দেখা শুরু করি তখন এই বিভিন্ন রকম তথ্যের কারণে এই প্রশ্নগুলো আমার মাথায় আসতে থাকে।

এবার তাহলে শুরু করা যাক , ডিঙ্গো আসলে কি ? প্রথম এর উত্তর হল ডিঙ্গো Canidae পরিবারের একজন মেম্বার। এই একই পরিবারের অন্যান্য সদস্য হল কুকুর, নেকড়ে, কায়োটি, এবং শিয়াল। মোট ৩৬ টি প্রজাতি রয়েছে এই পরিবারে এখন পর্যন্ত। এখন ডিঙ্গো কোনটা ? কুকুর , নেকড়ে , শিয়াল নাকি অন্যকিছু । সায়েন্টিস্টরা ডিঙ্গোর আসল পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ার কারণে এর বৈজ্ঞানিক নাম বেশ কয়েকবার পরিবর্তন করেছেন । প্রথম নাম দেন তারা Canis lupus dingo ( নেকড়ের উপ প্রজাতি) তারপর এর নাম হয় Canis familaris ( গৃহপালিত কুকুর) এরপর দেওয়া হয় Canis dingo ( কুকুর নেকড়ে শিয়ালের মত এটাও ভিন্ন স্পেসিস) । সায়েন্টিস্টদের বারবার এরকম নাম বদলানো এবং ডিঙ্গো কে একেক সময় একেক স্পেসিস ঘোষণা করা অস্ট্রেলিয়ার সরকারের পলিসির উপরও প্রভাব রেখেছে। জ্বীনগত পার্থক্যের কারণে বর্তমান সময়ের কিছু গবেষক একে কুকুর ,নেকড়ে উভয় থেকেই আলাদা করে রেখেছেন। অর্থাৎ এটা সম্পন্ন আলাদা এক প্রজাতি। এর প্রথম নামকরণ করেন জার্মান প্রাণীবিজ্ঞানী Friedrich Meyer ইংরেজি ১৭৯৩ সালে । তিনি নামকরণ করেন এভাবে Canis অর্থাৎ নেকড়ে, কায়োটি বা শিয়ালের মত কোন প্রাণী আর dingo নাম দেওয়া হয় অস্ট্রেলিয়ান আদিবাসীদের থেকে। ২০১৪ সালে The Journal of Zoology তে ডিঙ্গোর উপর এক রিসার্চ পাবলিশড হয় সেখানে বলা হয় ডিঙ্গোর ফ্ল্যাট এবং বড় সাইজের মাথা এবং দীর্ঘাকার মাথা প্রমাণ করে যে এটা কুকুর হতে আলাদা। এবং সে ইউনিক প্রজাতি ডিসার্ভ করে। এটা অস্ট্রেলিয়ার ট্যাক্সোনমি কমিউনিটিকে অনেকেটা আশ্চর্য করে। কিন্ত এরপরেও এ নিয়ে তর্ক বিতর্ক লেগেই আছে । ২০১৭ সালে ক্রিস হেলগান নামক এক ট্যাক্সোনমিস্ট এবং অন্যান্য বিজ্ঞানীরা মিলে বিজ্ঞানী লেটনিকের রিসার্চের এক জবাব প্রদান করে। সেখানে বলা হয় ডিঙ্গোর নাম হওয়া উচিত Canis familaris . এটা গৃহপালিত কুকুরের হাইব্রিড প্রজাতিরই এক প্রজাতি। মূল সমস্যা হল যারা ডিএনএ এর মাধ্যমে ডিঙ্গো কে শ্রেনীকরণ করছেন তারা একে আলাদা প্রজাতি হিসেবে ঘোষণা করতে বদ্ধপরিকর। আর যারা ডিঙ্গোর ব্রিডিং হিস্টোরি কে সামনে রাখছেন তারা একে ফেরাল ডগ থেকে আলাদা কিছু ভাবতে পারছেন না। ২০১৮ সালে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সরকার হেলগানের ক্লাসিফিকেশন মেনে নিয়ে একে Canis familaris ঘোষণা করে। সে হিসেবে তখন তা আর নেটিভ স্পেসিস থাকে না। তখন তা স্থানীয় কৃষকদের জন্য পেস্ট অ্যানিমাল হিসেবে সাব্যস্ত হয়। এবং একে হত্যার অনুমতি প্রদান করা হয়।

 

ডিঙ্গো এল কোথা হতে ? এ নিয়েও প্রচুর মত পার্থক্য রয়েছে । একটি মত হল ৩৫০০ সাল পূর্বে সামুদ্রিক পর্যটকদের দ্বারা এর আগমন হয় একসাথে অস্ট্রেলিয়া, সাউথ ইস্ট এশিয়া, ফিলিপাইন এবং ইন্দোনেশিয়াতে। অস্ট্রেলিয়াতে ৩৫০০ বছর আগের সবচেয়ে প্রাচীন ফসিল আবিষ্কৃত হয়। ডিঙ্গোর ডি এন এ গবেষণা করে বৈজ্ঞানিকেরা বের করেন অস্ট্রেলিয়াতে প্রথম ডিঙ্গোর আগমন ঘটে হয়তবা ৪,৬০০ থেকে ১৮,৩০০ সাল পূর্বে। আর এখানে মানুষের আগমন ঘটে ৩০,০০০ বছর পূর্বে। অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়াতে ডিঙ্গোর যখন আগমন ঘটে তখন পর্যন্ত কুকুর পুরোপুরি গৃহপালিত হয়ে উঠেনি। এখন হিসেব যাই বলুক, ডিঙ্গো বন্য হোক অথবা পোষ্য হোক অথবা গৃহপালিত কুকুর থেকেও যদি এর আগমন ঘটে থাকে একটা সময় পরে এরা সবাই ফেরালে পরিণত হয়। অনেকের মত হল ডিঙ্গো মূলত এশিয়ান ধূসর নেকড়েরই কোন প্রজাতি ছিল যা চার হাজার বছর পূর্বে সামুদ্রিক পর্যটকদের দ্বারা অস্ট্রেলিয়াতে আসে। জার্নাল অফ আর্কিওলোজিক্যাল সায়েন্স (Journal of Archaeological Science) এর এক সংখ্যায় আর্মিডাল অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অফ নিউ ইংল্যান্ড এবং ব্রিসবেন অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটি এর মেলানি ফিলনস ( Melanie Fillions ) এবং পল ট্যাকন (Paul Tacon) ডিঙ্গোর জ্বীনগত পরিচয়ের উপর ভিত্তি করে এ আলোচনার সিদ্ধান্ত টানার চেষ্টা করেন। ডিঙ্গো নেকড়ে থেকে বিবর্তিত হয়ে এই অবস্থায় এসেছে । কখন বিবর্তিত হয়েছে নির্দিষ্টভাবে এই সময়টা বলা সম্ভব নয়। কিন্ত বর্তমান সময়ের নেকড়ে , কুকুর এবং ডিঙ্গোর ডিএনএ দেখে এটা প্রায় পরিষ্কার যে এ প্রাণীর ওরিজিন হয়েছে এশিয়াতে বেশি সম্ভব চিনে। তারপর তা তাইওয়ান এবং সাউথ ইস্ট এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে সেখান থেকে ইন্ডিয়ান মেরিনাররা অস্ট্রেলিয়াতে পৌছায়। জেনেটিক এভিডেন্স আরো অনেক কিছু স্পষ্ট করে। যেমনঃ বর্নোয়া (Borneo) এবং সুলাওয়েসি (Sulawesi) থেকে যে ডিঙ্গো আনা হয় তা ৫,০০০ থেকে ১২,০০০ বছর পূর্বে। কিন্ত আমরা ২০১৪ এর একটা রিপোর্টে দেখি ডিঙ্গোর বেশকিছু ডাইজেস্টন জিনের অনুপস্থিতি রয়েছে । তাদের কাজিন কুকুর প্রজাতি কৃষি কাজ সংশ্লিষ্ট লোকদের সাথে থেকে ঐ জীনের উন্নতি ঘটে। ফ্যাক্ট হল, ডিঙ্গোদের অস্ট্রেলিয়াতে আসার পূর্বেও তাদের মধ্যে ঐ জীনের অনুপস্থিতি ছিল। কেননা, অস্ট্রেলিয়াতে আসার পূর্বে তারা কৃষকদের সাথে কখনো থাকে নি। অর্থাৎ পুরোপুরি বন্য ছিল। কিন্ত এই রিসার্চই শেষ রিসার্চ নয়। আরো রিসার্চ প্রকাশ হয়েছে যেখানে গবেষকেরা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন ডিঙ্গো হল ডমেস্টিক ডগ বা গৃহপালিত কুকুর এরপর অস্ট্রেলিয়াতে এসে ফেরাল হয়ে নতুন কিছু বৈশিষ্ট্য ধারণ করেছে। এই বিতর্ক শেষ হওয়ার নয়।

ডিঙ্গো কে কেন অন্য কোথাও দেখা যায় না। ডিঙ্গো নিয়ে যত আলোচনা হবে তত যেন বিষয়টা আরো ঘোলাটে আকার ধারণ করে। ডিঙ্গোর পূর্বপুরুষ গৃহপালিত কুকুর হোক বা নেকড়ে হোক অস্ট্রেলিয়াতে এসে দীর্ঘ সময়ব্যাপী এরা নতুন কিছু বৈশিষ্ট্য ধারণ করে । এগুলো মূলত তাদের জ্বীনগত পরিবর্তনের কারণেই ঘটে। যা অন্যকোথাও হয় নি। তাই ডিঙ্গোর জন্ম অস্ট্রেলিয়াতেই।

ডিঙ্গোর টাইমলাইন মোটামুটি এরকম। ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ হাজার বছর পূর্বে ইন্ডিয়ানরা চায়না বা সাউথ ইস্ট এশিয়া হতে গ্রে উলফ জাতীয় কোন প্রাণী বা কুকুর (যা পুরোপুরি গৃহপালিত হয় নি) কে নিজেদের সাথে শিকারের সময় সাহায্যের জন্য নিজেদের সাথে করে নিয়ে আসে। এই প্রাণিরই জ্বীনগত বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন হতে থাকে তখন তারা সম্পন্ন নতুন এক স্পেসিসে পরিণত হয়। যা কুকুরের থেকে নেকড়ের সাথেই বেশি মানানসই। যেমনঃ ডিঙ্গো নেকড়ের ন্যায় বছরে একবার বাচ্চাদান করে, ডিঙ্গো নেকড়ের ন্যায় উচ্চ বুদ্ধি সম্পন্ন শিকারী প্রাণী, দলবেঁধে শিকার করতে পছন্দ করে।

কিন্ত ডিঙ্গোর অস্তিত্ব আবারো হুমকির সম্মখীন । কিন্ত কিভাবে ? এটা ডিঙ্গোর জন্য নতুন টাইমলাইন। যা শুরু হয় ইউরোপিয়ান সেটলাররা আসার পর হতে। ইউরোপিয়ান সেটলাররা তাদের সাথে যে কুকুর নিয়ে আসে তা ফেরাল হয়ে গেলে সেগুলো আবার বনে জঙ্গলে চলে গেলে তার সাথে ডিঙ্গোর ইন্টারব্রিড শুরু হয়। এই জিনিস ডিঙ্গোর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য কে আবার নষ্ট করা আরম্ভ করে। বর্তমান সময়ের বেশিরভাগ ডিঙ্গোই পিউর ডিঙ্গো নয়। অর্থাৎ এদের জ্বীনে অস্ট্রেলিয়ান ফেরাল ডগ এবং ডিঙ্গো উভয়েরই জীন রয়েছে। ফ্রেসার আইল্যান্ড এর ডিঙ্গো ছাড়া আর কোন জায়গার ডিঙ্গো পুরোপুরি পিউর ডিঙ্গো নয়।

ডিঙ্গোকে অস্ট্রেলিয়ান সরকার বর্তমানে কি হিসেবে দেখে ? অনেক জল্পনা কল্পনার পর অস্ট্রেলিয়ান সরকার একে নেটিভ স্পেসিস হিসেবে ঘোষণা করে। এটা অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র Canid প্রজাতি। এবং সরকারিভাবে তারা এর পূর্ব পুরুষ নেকড়ে হিসেবে গ্রহণ করেছে। Nature Conservation Act 1992 অনুসারে ডিঙ্গো জাতীয় উদ্যানসমূহে এক সংরক্ষিত প্রাণী। ফ্রেসার আইল্যান্ডের ডিঙ্গো সংরক্ষিত হলেও কুইন্সল্যান্ডের ডিঙ্গো পেস্ট হিসেবে সাব্যস্ত। ডিঙ্গো কে অস্ট্রেলিয়ান সরকার ফেরাল ডগ এবং ডিঙ্গোর মধ্যকার পার্থক্য বুঝানোর অনেক চেষ্টা করলেও তা অস্ট্রেলিয়ান কৃষকদের নজর কারে নি। তাদের নিকট উভয়েই সমান। কেননা তাদের ভাষ্যমতে উভয়েই তাদের পশুসম্পত্তির ক্ষতি করে। ডিঙ্গোর বন্য বৈশিষ্ট্য টিকিয়ে রাখার জন্য অস্ট্রেলিয়ান সরকার বদ্ধ পরিকর এজন্য তারা ডিঙ্গোকে কোনরকম খাদ্য প্রদান করাকে আইনত অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

এখন ডিঙ্গো যদি আলাদা কোন প্রজাতি হয় যা না নেকড়ে না কুকুর তাহলে কি ডিঙ্গো কে ডগ হিসেবে ডাকা যাবে ? ডাকতে মানা নেই। বিজ্ঞানীরা কোন প্রাণীর নামকরণ করেন তাদের আপন সুবিধার্থে যা দ্বারা একটা প্রাণীর পরিচয় নাম শুনলেই বুঝা যায়। ডিঙ্গো কে আপনি কুকুর হিসেবে ডাকতে পারবেন। আমরা সাধারণ মানুষেরাও অনেক প্রাণীকে আমাদের মত করে নামকরণ করি। যেমনঃ সী লায়ন। এখন সী লায়ন মানে যে লায়ন নয় এটা আমরা সবাই জানি। কিন্ত সী লায়ন ডাকতে তো মানা নেই।  কিন্ত যদি কোন রিসার্চ পেপার লিখেন ডিঙ্গো নিয়ে সেখানে ডিঙ্গো কে কুকুর হিসেবে পরিচয়দান করা যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কিন্ত অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়া ডিঙ্গো কে বর্তমানে ডিঙ্গো হিসেবেই পরিচয় দেয়। আর তারা যখন ‘ওয়াইল্ড ডগ’ বলে তখন তার দ্বারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফেরাল ডগ উদ্দেশ্য নেওয়া হয়। আর অল্প কিছু ব্যতীক্রমে ডিঙ্গো এবং ফেরাল উভয়কেই বুঝানো হয়।  

অস্ট্রেলিয়ার ইকোলজিতে ডিঙ্গোর অবস্থান নিয়েও রয়েছে মতপার্থক্য। যারা ডিঙ্গোকে ফেরাল ডগ হিসেবে দেখছেন তারা ডিঙ্গোকে অন্যান্য ফেরাল প্রাণীর মত অস্ট্রেলিয়ার ইকো সিস্টেমের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন। আর যারা ডিঙ্গোকে নেটিভ স্পেসিস হিসেবে দেখছেন তারা ডিঙ্গোর অসংখ্য উপকারী দিক বের করেছেন। মূলত ডিঙ্গোর আগমনের কারণেই মেইনল্যান্ড অস্ট্রেলিয়া হতে অস্ট্রেলিয়ার নিকট অতীতের একমাত্র অ্যাপেক্স প্রিডেটর তাসমানিয়ান টাইগার এর বিলুপ্তি ঘটে। তখনকার সময়ে তাসমানিয়ান টাইগার মানুষ , মানুষের পালিত কুকুর এবং ডিঙ্গোর কারণে কোন স্থানেই নিরাপদ আশ্রয় পাওয়াটা দুষ্কর হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। বিশেষ করে জঙ্গলে ডিঙ্গো এবং তাসমানিয়ান টাইগার উভয়েই অ্যাপেক্স প্রিডেটর হওয়ার কারণে এবং উভয়ের মধ্যে ডিঙ্গো শক্তিশালী হওয়ার কারণে তাসমানিয়ান টাইগারের খাদ্যব্যবস্থা হুমকির সম্মখীন হয়। এরপর যখন এরা মানুষের পশুসম্পত্তির উপর হামলা করে আরম্ভ করে তখন মানুষও এদের শত্রু হয়ে যায়। তখন ব্যাপকহারে এর হত্যাযজ্ঞ শুরু হয়। একসময় তারা বিলুপ্তির পথ ধরে। কিন্ত ডিঙ্গোর উপস্থিতি সেই অ্যাপেক্স প্রিডেটরের অভাব কিছুটা হলেও পূরণ করে। আরো এক বেনেফিট হল যে সমস্ত ফেরাল এবং ইনভেসিভ বা আগ্রাসী প্রজাতির জন্য অস্ট্রেলিয়ান জীব বৈচিত্র্য হুমকির হম্মখীন হয়েছে যেমনঃ বিড়াল, শিয়াল, শূকর। ডিঙ্গো ইত্যাদি প্রাণীর জন্য একরকম ত্রাস হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। এছাড়াও অত্যাধিক পরিমাণ ক্যাঙ্গারু যা প্রায় প্রতিবছরই অস্ট্রেলিয়ান সরকারের কালিং বা হত্যা করার প্রয়োজন হয় তার একটা সংখ্যাও ডিঙ্গোর ফুডলিস্টে আছে। অর্থাৎ ডিঙ্গোর ব্যাপারে আপনি বিতর্ক থামাতে চাইলেও পারবেন না। এটাই ডিঙ্গোর এক আইকনিক পরিচয়। নিচের দেওয়া শেয়ারকৃত লিঙ্কগুলোর উপর নজর দিলেই বুঝবেন ডিঙ্গো নিয়ে কি পরিমাণ বিতর্ক বিজ্ঞানী মহলে চলছে।  

প্রবন্ধটি লিখতে যে সমস্ত মূল প্রবন্ধের সাহায্য নেওয়া হয়েছেঃ

১। https://www.nytimes.com/2012/03/06/science/australias-view-of-the-dingo-evolves.html

২। https://www.anu.edu.au/news/all-news/research-reveals-when-dingoes-first-arrived-in-australia

৩। https://www.sciencemag.org/news/2016/04/how-did-dingo-get-australia#

৪। https://environment.des.qld.gov.au/wildlife/animals/living-with/dingoes

৫। https://www.smithsonianmag.com/smart-news/dingoes-arent-just-wild-dogs-180950384/

৬। https://www.newscientist.com/article/dn4207-wild-dingoes-descended-from-domestic-dogs/

৭। https://www.smh.com.au/environment/conservation/dog-gone-scientists-confirm-the-dingo-is-a-unique-species-20140328-35onp.html

One thought on “অস্ট্রেলিয়ার আইকনিক প্রাণী ডিঙ্গো সমাচার

  1. ‘ডিঙ্গো’ নিয়ে আবারো বিতর্ক | WILDLIFE THINKER

    […] বন্য কুকুর বা ওয়াইল্ড ডগ খ্যাত ‘ডিঙ্গো‘ নিয়ে বিতর্কের ঘোর যেন কাটছেই না। […]

Leave a Reply

Your email address will not be published.